ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফশিলের বৈধতা প্রশ্নে রিটের ওপর প্রথম দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার প্রথম দিনের শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য রেখেছেন।

এদিকে শুনানিতে আদালত বলেছেন, পাঁচ মাস আগে যে নির্বাচন হচ্ছে, সেটাও আল্লাহর হুকুমেই হচ্ছে। রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ মন্তব্য করেন উচ্চ আদালত। শুনানিতে রিটকারী আইনজীবীকে আদালত প্রশ্ন করেন, আপনি কেন নির্বাচন নিয়ে সংক্ষুব্ধ হলেন? তখন আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, আমি সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। আমরা শপথ নিয়েছি। জনস্বার্থে অনেক মামলা করে রায়ও পেয়েছি। আদালত বলেন, রিটে আপনি কী চেয়েছেন?

আইনজীবী বলেন, তফশিল স্থগিত চেয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আরও পাঁচ মাস সময় রয়েছে। অথচ তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করতে চাইছে কমিশন। অনেক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এ অবস্থায় নির্বাচন প্রিম্যাচিউরড। ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, মন্ত্রিসভা ছোট করতে হবে। এসবের কিছুই করা হয়নি।

হাইকোর্ট বলেন, নির্বাচন কমিশনের সংবিধানের মধ্যে থেকে তাদের সুবিধামতো সময়ে নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। আর এক সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তো ২০১৮ সালে ‘সেটেল্ড’ হয়ে গেছে।

শুনানির একপর্যায়ে সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদে দুর্যোগ-দুর্বিপাকের কারণে সংসদের মেয়াদ শেষে নির্বাচন প্রসঙ্গ এলে আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, সবকিছু তো আল্লাহর হুকুমে হয়। তখন হাইকোর্ট বলেন, পাঁচ মাস আগে যে নির্বাচন হচ্ছে সেটাও তো আল্লাহর হুকুমেই হচ্ছে। এরপর শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

পরে আদালত রিটকারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, এটা সাংবিধানিক বিষয়। সংবিধানের মধ্যে থেকে শুনানি করতে হবে। আপনি ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে আসুন। সোমবার আবারও এ বিষয়ে শুনব।

গত ২৯ নভেম্বর একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদ নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন সুপিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয় রিট আবেদনে। এর আগের দিন (২৮ নভেম্বর) সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এ আইনজীবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *