ঢাকা, শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
৩৪ ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণে মরিয়া আরসা
দৈনিক পূর্বকোন::

রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া আরকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা)। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারভাগে কাজ করছে আরসা।

আতাউল্লাহ ওরফে আবু আমর ওরফে জুনুনী নামে একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে আরসার। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেতৃস্থানীয় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। গত ২৯ অক্টোবর রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যার পর আলোচনায় আসে আরসা।

এ ঘটনার ২২ দিনের মাথায় গত ২২ অক্টোবর উখিয়ার থাইনখালি (ক্যাম্প-১৮) রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ছয়জন হত্যায়ও সন্দেহের তীর আরসার দিকে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টাস ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ক্যাম্পগুলোতে আরসার কিছু যুবক ঘোরাঘুরি করছে।

এ যে হত্যা, মারামারি, দখল,আধিপত্য বিস্তার, তার উপরে মাদক ব্যবসা। এসবের ভাগাভাগির কারণে সেখানে একটা অশান্তির পরিবেশ সৃষ্ট করেছে। র‌্যাব পুলিশের পাশপাশি সেনাবাহিনীর নজরদারিতেও রাখা হয়েছে ক্যাম্পগুলো। তারপরও বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় উখিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত কোন আসামি না থাকলেও ছয় হত্যা মামলায় ২৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আরসার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মুহিবুল্লার ভাই হাবিব উল্লার দাবি- আরসা তার ভাইকে হত্যা করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ছয় হত্যা মামলার বাদী নুরুল ইসলাম বলেন, আরসা নেতা হাশিম, খালেদ, খালেক, রহমত করিমসহ দুই শতাধিক আরসা সদস্য মাদ্রাসায় হামলার সময় উপস্থিত ছিল। ওরা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে থাকে। মাঝে মাঝে ক্যাম্পে আসে।

উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাকিল আহমদ জানান, আরসা নামে কোন গ্রুপের অস্তিত্ব নেই ক্যাম্পে। দৃষ্কৃতকারিরা ঘটনা ঘটিয়ে আরসা নামটি ব্যবহার করছে। ছয় হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।

আরসার গুরুত্বপূর্ণ নেতা যারা : ১৮ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আরসার চারটি উপশাখা রয়েছে। তা হলো- উলামা কাউন্সিল, উলামা বোর্ড, মজলিসে আম ও আরকান আর্মড। এরমধ্যে উলামা কাউন্সিলের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন, মৌলভী মোস্তাক ও উলামা বোর্ডের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন হাফেজ এহসান। এরমধ্যে মোস্তাকের ঠিকানা ১৩ নম্বর ক্যাম্প ও এহসানের ঠিকানা ১০ নম্বর ক্যাম্পে বলা হলেও তারা সেখানে থাকে না।

এর বাইরেও আরসার কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা ফওজুল কবির, প্রধান মুফতির দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা জামাল, জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন হাবির ওরফে জান্নাত উল্লাহ, পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য মাওলানা সলিম সাকের, মাওলানা আরাফাত ইব্রাহিম, প্রধান স্পোকেন পার্সন মাওলানা হামিদ হোসানই ওরফে সোয়াইব, কিলার গ্রুপের দায়িত্বে রয়েছেন জোবাইর ইদ্রিস,হামিদ উললাহ ওরফে গোলাম কাদের ও টাইগার গ্রুপের প্রধানরে দায়িত্বে রয়েছেন আয়াস। এর বাইরেও প্রতিটি ক্যাম্পে তাদের ক্যাম্প কমান্ডার রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, থাইনখালি ক্যাম্পের মাদ্রাসা ও মসজিদে হামলার ঘটনায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত দশজন আরসার গুরুত্বপুর্ন নেতা রয়েছে। এরমধ্যে আরসার সেকেন্ড কমান্ডার চিফ-১ হাশিম ওরফে ওস্তাদ হাশিম ও চিফ-২ খালেদকে আসামি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোহিঙ্গা মাঝি জানান, ছয় হতাকা-ে ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে হাশিম ওরফে ওস্তাদ হাশিমকে। তিনি পাকিস্তানী হাশিম নামেও পরিচিত। মায়নমারের বংশোদ্ভূদ হাশিমের জন্ম পাকিস্তানে। তিনি বড় হয়েছেন সৌদি আরবে। আরসার সেকেন্ড ইন কমান্ডার অব চিফ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছয় হত্যা মামলার এজাহারে তার ঠিকানা বালুখালী ১৮ নম্বর শরণার্থী ক্যাম্পের বর্ধিত অংশে এইচ ৫৭ – ব্লকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি সেখানে থাকেন না। মামলায় ১৯ নম্বর আসামীি করা হয়েছে হামিদ ওরফে খালেদকে। তিনিও আরসার সেকেন্ড ইন কমান্ডার অব চিফ-২ হিসাবে পরিচিত। মামলার এজাহারে খালেদের ঠিকানা ১৮ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের ৫৫ এইচ ব্লকে উল্লেখ করা হয়েছে। আরসার কেন্দ্রিয় কমিটিতে কমান্ডার অফ চিফ (আরসার ভাষায়) আতাউল্লা ওরফে আবু আমরের পরেই তাদের দুই জনের স্থান বলা হয়ে থাকে।

এ দুইজনের কাছে খবর আদান প্রদান করতে আবু সাঈয়েদ নামে একজন সোর্সও রয়েছে। যাকে আরসার ভাষায় চিফ-১ ও ২ এর স্পেশাল স্পাই বলা হয়ে থাকে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া আরকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা)। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারভাগে কাজ করছে আরসা।

আতাউল্লাহ ওরফে আবু আমর ওরফে জুনুনী নামে একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ৪১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে আরসার। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেতৃস্থানীয় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। গত ২৯ অক্টোবর রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যার পর আলোচনায় আসে আরসা।

এ ঘটনার ২২ দিনের মাথায় গত ২২ অক্টোবর উখিয়ার থাইনখালি (ক্যাম্প-১৮) রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ছয়জন হত্যায়ও সন্দেহের তীর আরসার দিকে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টাস ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ক্যাম্পগুলোতে আরসার কিছু যুবক ঘোরাঘুরি করছে।

এ যে হত্যা, মারামারি, দখল,আধিপত্য বিস্তার, তার উপরে মাদক ব্যবসা। এসবের ভাগাভাগির কারণে সেখানে একটা অশান্তির পরিবেশ সৃষ্ট করেছে। র‌্যাব পুলিশের পাশপাশি সেনাবাহিনীর নজরদারিতেও রাখা হয়েছে ক্যাম্পগুলো। তারপরও বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় উখিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত কোন আসামি না থাকলেও ছয় হত্যা মামলায় ২৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আরসার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মুহিবুল্লার ভাই হাবিব উল্লার দাবি- আরসা তার ভাইকে হত্যা করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ছয় হত্যা মামলার বাদী নুরুল ইসলাম বলেন, আরসা নেতা হাশিম, খালেদ, খালেক, রহমত করিমসহ দুই শতাধিক আরসা সদস্য মাদ্রাসায় হামলার সময় উপস্থিত ছিল। ওরা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে থাকে। মাঝে মাঝে ক্যাম্পে আসে।

উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাকিল আহমদ জানান, আরসা নামে কোন গ্রুপের অস্তিত্ব নেই ক্যাম্পে। দৃষ্কৃতকারিরা ঘটনা ঘটিয়ে আরসা নামটি ব্যবহার করছে। ছয় হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।

আরসার গুরুত্বপূর্ণ নেতা যারা : ১৮ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আরসার চারটি উপশাখা রয়েছে। তা হলো- উলামা কাউন্সিল, উলামা বোর্ড, মজলিসে আম ও আরকান আর্মড। এরমধ্যে উলামা কাউন্সিলের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন, মৌলভী মোস্তাক ও উলামা বোর্ডের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন হাফেজ এহসান। এরমধ্যে মোস্তাকের ঠিকানা ১৩ নম্বর ক্যাম্প ও এহসানের ঠিকানা ১০ নম্বর ক্যাম্পে বলা হলেও তারা সেখানে থাকে না।

এর বাইরেও আরসার কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা ফওজুল কবির, প্রধান মুফতির দায়িত্বে রয়েছেন মাওলানা জামাল, জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন হাবির ওরফে জান্নাত উল্লাহ, পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য মাওলানা সলিম সাকের, মাওলানা আরাফাত ইব্রাহিম, প্রধান স্পোকেন পার্সন মাওলানা হামিদ হোসানই ওরফে সোয়াইব, কিলার গ্রুপের দায়িত্বে রয়েছেন জোবাইর ইদ্রিস,হামিদ উললাহ ওরফে গোলাম কাদের ও টাইগার গ্রুপের প্রধানরে দায়িত্বে রয়েছেন আয়াস। এর বাইরেও প্রতিটি ক্যাম্পে তাদের ক্যাম্প কমান্ডার রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, থাইনখালি ক্যাম্পের মাদ্রাসা ও মসজিদে হামলার ঘটনায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত দশজন আরসার গুরুত্বপুর্ন নেতা রয়েছে। এরমধ্যে আরসার সেকেন্ড কমান্ডার চিফ-১ হাশিম ওরফে ওস্তাদ হাশিম ও চিফ-২ খালেদকে আসামি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রোহিঙ্গা মাঝি জানান, ছয় হতাকা-ে ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে হাশিম ওরফে ওস্তাদ হাশিমকে। তিনি পাকিস্তানী হাশিম নামেও পরিচিত। মায়নমারের বংশোদ্ভূদ হাশিমের জন্ম পাকিস্তানে। তিনি বড় হয়েছেন সৌদি আরবে। আরসার সেকেন্ড ইন কমান্ডার অব চিফ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছয় হত্যা মামলার এজাহারে তার ঠিকানা বালুখালী ১৮ নম্বর শরণার্থী ক্যাম্পের বর্ধিত অংশে এইচ ৫৭ – ব্লকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি সেখানে থাকেন না। মামলায় ১৯ নম্বর আসামীি করা হয়েছে হামিদ ওরফে খালেদকে। তিনিও আরসার সেকেন্ড ইন কমান্ডার অব চিফ-২ হিসাবে পরিচিত। মামলার এজাহারে খালেদের ঠিকানা ১৮ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পের ৫৫ এইচ ব্লকে উল্লেখ করা হয়েছে। আরসার কেন্দ্রিয় কমিটিতে কমান্ডার অফ চিফ (আরসার ভাষায়) আতাউল্লা ওরফে আবু আমরের পরেই তাদের দুই জনের স্থান বলা হয়ে থাকে।

এ দুইজনের কাছে খবর আদান প্রদান করতে আবু সাঈয়েদ নামে একজন সোর্সও রয়েছে। যাকে আরসার ভাষায় চিফ-১ ও ২ এর স্পেশাল স্পাই বলা হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *