ঢাকা, শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
১৩ দফায় ১৫৪৪ রোহিঙ্গা ভাসানচরের পথে
শাহেদ হোছাইন মুবিন,উখিয়া ::

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর প্রক্রিয়ার কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফ শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে ১৩ দফায় দ্বিতীয় দিনেরনোয়াখালীর ভাসানচর যাচ্ছে ৫০১ টি পরিবারের ১ হাজার ৫৪৪ জন রোহিঙ্গা

বুধবার ( ৩০ মার্চ ২০২২) দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার মাধ্যমে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠ থেকে ভাসানচরে উদ্দেশে চট্টগ্রামে রওনা দেয় ৩৫টি বাস। রোহিঙ্গরা বুধবার চট্টগ্রামে থাকবেন এবং সেখান থেকে বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরে যাবেন।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজারের আর্মড পুলিশ ১৪ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) নাইমুল হক জানান, `এবার ১৩ দফার দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে প্রায় ৫০১ টিকে পরিবারের ১৫৪৪ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশে চট্রগ্রামে রওনা দিয়েছে।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বারো দফায় প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গাকে সরকার ভাসানচরে পাঠায়। গতকাল ১৩ দফার প্রথম দিনে ১ হাজার ৯৯৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশে চট্রগ্রামে রওনা হয়। এ ছাড়া গত বছর মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবন যাপন হওয়ায়, ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যেতে রোহিঙ্গাদের আগ্রহী বাড়ছে উল্লেখ করে ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন জানান, এবারও তার শিবির থেকে কিছু মানুষ ভাসানচরে উদ্দেশে যাত্রা করেছে। অন্যবারের চেয়ে এবারের সংখ্যা বেশি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। আগের ও তখনকার মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছেন। গত ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে ভাসানচরে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ওই বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। এরপর থেকেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভাসানচর যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *