ঢাকা, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
সিনহা হত্যা: ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এটাই রায়ে প্রমাণ হোক’
মুহিববুল্লাহ মুহিব, ককক্সবাজার ::

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার রায় এখন কয়েক ঘণ্টার বিষয়। সোমবার কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এই মামলায় আসামিদের পরিণতি ঘোষণা করবেন।

বিচারক কখন আসামিদের সাজা ঘোষণা করবেন, এ নিয়ে অধীর অপেক্ষায় সিনহার স্বজনরা। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, তারা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়া উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জেরা ও যুক্তিতর্ক হয়েছে উভয়পক্ষের। সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। রায়ে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি।’

একই সাজার প্রত্যাশায় সিনহার পরিবারও। প্রয়াত সেনা কর্মকর্তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের সবাইকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হোক। এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে। অপরাধ করে কেউ যেন পার না পায়। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এটাই রায়ে প্রমাণ হোক।’

এ মামলার আসামিরা হলেন কক্সবাজারের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, এএসআই সাগর দেব, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও রুবেল শর্মা এপিবিএন এর তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ যে মামলা করেছিল, তার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজও এই মামলার আসামি।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া এই কর্মকর্তা ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ।

কক্সবাজারের পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে তল্লাশিতে বাঁধা দেন। পরে পিস্তল বের করলে পুলিশ তাকে গুলি করে।

সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ

 

ওই বছরের ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

সিনহা নিহতের ছয় দিন পর লিয়াকত আলী ও প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই বছরের ২৪ জুন মামলার অন্যতম পলাতক আসামি টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আসামিদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ঘটনার প্রায় সাড়ে চার মাস তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম ১৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২১ সালের ২৭ জুন সকল আসামির উপস্থিতিতে বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওইদিন সকল আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

একই বছরের ২৩ অগাস্ট মামলার বাদী সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচার।

গত ৯, ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ জানান বিচারক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *