ঢাকা, শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
সহযোগী দেশগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে ব্যবসাবাণিজ্য বাড়াচ্ছে 
ডেস্ক রিপোর্ট ::

রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক মহলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারের হাতে। আর চাপে পড়লেই মিয়ানমার কথা শোনে। তাই বিশ্বের উচিত দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক মহল প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখছে না এমন অভিযোগ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে কথা বলছে না উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো। তারা রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে ব্যবসাবাণিজ্য বাড়াচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোমেট ম্যাগাজিন আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবর্তন বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. দেলোয়ার হোসেন, মানবাধিকার কর্মী আসিফ মুনীরসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার শুরু করেছে, তাদেরই এটি শেষ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে একসময় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ছিল। তারা সম্পদশালী ছিল। কিন্তু এখন তারা রাষ্ট্রবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এই সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে।

একে আবদুল মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। অথচ কিছু পশ্চিমা দেশ এখনো মিয়ানমারের সঙ্গে পুরোদমে ব্যবসাবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে আড়াই লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ঠেলে দেয় মিয়ানমার।  বাংলাদেশের সঙ্গে বছরের পর বছর মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে। কিন্তু কথা রাখেনি। এমনকি যখন মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায় তখন বিশ্বের কোনো দেশ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। তখন পাশে থেকে তাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছিল একমাত্র বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশের ওপর কোনো চাপ নেই। তারা তাদের নিয়মে চলছে। সরকারিভাবে তারা বিশেষ কিছু করেনি, তারা তাদের কাজ করছে। আমরা আমাদের কাজ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *