ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
‘যারা আমার বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহ বিরোধী
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

‘যারা আমার বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহ পাকের সঙ্গে বিরোধিতা করবে। কারণ আমি করি আল্লাহ পাকের মসজিদ, আর শয়তানেরা মসজিদে আসবে, গোরস্থানেও শোবে।’ খোকসা উপজেলার চেয়ারম্যানপ্রার্থী ছোট ভাই রহিম উদ্দিন খানের নির্বাচনী পথসভায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানের দেওয়া এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার এমন বক্তব্য এলাকায় আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নে গোসাইডাঙ্গী গ্রামে নির্বাচনী পথসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, ‘আল্লাহ পাক উন্নয়ন করাবে আমাকে দিয়ে। যারা আমার বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহর সঙ্গে বিরোধিতা করবে। শয়তানেরাও মসজিদে আসবে, শয়তানেরাও গোরস্থানে শোবে। শয়তানেরা মসজিদে এসে সুখে থাকতে পারবে না। কোনো ওয়াক্তে যাবে, কোনো ওয়াক্তে যাবে না। আর গোরস্থানে গেলে শয়তানদের যেভাবে মাটি চাপা হবে, আপনারা কল্পনাই করতে পারবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শয়তানের অনুসারীদের বলব- শয়তানের সঙ্গে থাইকি এই শাস্তি ভোগ করার দরকার নেই। যারা শয়তান আছে থাক, তা বাদে সবাই আপনারা একসঙ্গে আসবেন। একসঙ্গে হয়ে জয় সুনিশ্চিত করেন। জয় আল্লাহপাকের ইচ্ছা। আল্লাহপাকের রহমতে আইজকি বুইলি গেলাম, জয় সুনিশ্চিত।’

শুক্রবার ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তার এমন বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাবুল আখতারসহ সাধারণ নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগামী ৮ মে প্রথম দফায় খোকসা উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল আখতার, সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিম উদ্দিন খান ও যুগ্ম সম্পাদক আল মাছুম মোর্শেদ।

রহিম উদ্দিন খান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানের ভাই। রহিম উদ্দিন খানের ছেলে শাওন মাহামুদ খানও প্রার্থী হয়েছেন, যদিও তিনি বাবার পক্ষে মাঠে ভোট করছেন।

উচ্চ আদালতের স্থগিত আদেশে বাদ পড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুল ইসলামের স্ত্রী সালেহা বেগম নাছিমা আনারস প্রতীকে ভোট করছেন। এই প্রার্থীর হয়ে ভোট করছেন তারই দেবর ও চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সদর উদ্দিন খান তার ভাইকে জেতানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তার পক্ষে তিনি নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন। এর আগে তার ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচন থাকার জন্য থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে সদর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। সে সময় দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার বলেন, ‘আমার নেতা যে বেশভূষায় চলেন, তাতে তার এই বক্তব্য খুবই বেমানান। মহান আল্লাহ পাকের সঙ্গে নিজের তুলনা করা ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হবিবর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বক্তব্য সুপার এডিট করে উপস্থাপন করেছে একটি চক্র। জেলা সভাপতি সম্প্রতি এলাকার মসজিদ, কবরস্থান ও মন্দিরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আর একটি মহল মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বাঁধা দিচ্ছে তাদের শয়তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি তা কেটে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *