ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
মেরামতের টাকা নেই, নিলামে উঠছে ৭০ লাখ টাকার জিপ
ডেস্ক রিপোর্ট ::

রংপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি নিলামে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির মেরামতে প্রয়োজন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় নিলামের নামে বেহাত হতে যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান এই সম্পদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু বিলাসবহুল জিপ গাড়িটি নয়, অব্যবহৃত আরও ৩৩টি মোটরসাইকেল এবং একটি জরাজীর্ণ জিপ গাড়িও নিলামে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে বিআরটিএকে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ি এলাকায় মিটসুবিশি জিপ গাড়িটি (রেজি নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-২১১৫) দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ সময় গাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তৎকালীন পরিচালক (অর্থ) ও বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা ছিলেন। দুর্ঘটনায় পরিচালকসহ গাড়িতে থাকা অন্যরাও আহত হয়েছিলেন।

দুর্ঘটনাকবলিত জিপ গাড়ির চালক আলী হোসেন সরকার জানান, গাড়িটি ২০১৫ সালের মডেল। ২০১৬ সালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালকের নির্দেশে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম। ওই ঘটনার পর থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় গাড়িটি আর মেরামত করা হয়নি।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চিঠি দিয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করে কোনো সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ এই সময়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মকর্তারা পুরাতন গাড়ি ব্যবহার করে আসছেন। এতে জ্বালানি বাবদ খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সময় অপচয়ও বাড়ছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে আছে। একাধিকবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে লিখিতভাবে জানালেও কোনো লাভ হয়নি। অথচ সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ করলে জিপ গাড়িটি ব্যবহারের উপযোগী করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, এটি সাড়ে তিন বছর আগের ঘটনা। ওই সময়ে আমি অন্যত্র কর্মরত ছিলাম। তবে শুনেছি আগের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে দিয়ে গাড়িটির কী কী ক্ষতি হয়েছে এর একটি তালিকা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *