ঢাকা, সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
মন্দা সময় পার করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা
দৈনিক কক্সবাজার ::

পর্যটক শূণ্যতা বিরাজ করছে কক্সবাজারে। তাই কক্সবাজারে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এবং পর্যটন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত সকলেই একপ্রকার মন্দা সময় পার করছে। তবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার পরদিন থেকেই কক্সবাজারমুখী হবে পর্যটকরা এমনই প্রত্যাশা ব্যবসায়ী ও কক্সবাজার পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

দীর্ঘ ১২০ কিঃ মিঃ কক্সবাজার  সমুদ্র সৈকতের পর্যটন এলাকার সারিবদ্ধ চেয়ারগুলো খালি পড়ে আছে। স্থানীয় কিছু লোক জন ছাড়া নেই কোনো পর্যটক। এতে চেয়ার ব্যসায়ীরা লোকসানে দিন কাটাচ্ছে। এরকমভাবে পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত সব জায়গায় একরকম শূণ্যতা বিরাজ করছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, প্রতি বৎসর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর কিংবা ঈদ-উল-আযহার সময় এমনকি যেকোন উৎসবকে ঘিরে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কিংবা কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকা কানায় কানায় ভরে উঠে পর্যটকে। এবারের ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটক সমাহারে যেভাবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করেছিল তা কিন্তু মোটেই পূরণ হয়নি। তারপরও ঈদ-উল-আযহার দ্বিতীয় দিন থেকে সপ্তাহব্যাপী সময় ধরে পর্যটক সমাগমে ভরে উঠবে কক্সবাজার এমনটাই প্রত্যাশার অপেক্ষায় পর্যটন ব‍্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামীকাল রবিবার হচ্ছে পবিত্র কোরবানীর ঈদ। সেই হিসেবে সোমবার ছাড়া সরকারিভাবে কোন ছুটি নেই। মঙ্গলবার থেকে যথারীতি শুরু হচ্ছে অফিস-আদালতসহ সরকারি দফতরের কাজ। তাই তুলনামূলকভাবে কক্সবাজারে পর্যটক না আসার কারণ হিসেবে আমরা ধারণা করছি। তবে কেউ কেউ ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে কিছু সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবে। যা কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের জন্য নগন্য। তারপরও আমরা আশাবাদী কক্সবাজারমুখী হবে পর্যটকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটক শুধু কক্সবাজার শহরে নেই তা নয়। জেলার সংশ্লিষ্ট পর্যটন এলাকায়ও এই শূণ্যতা বিরাজ করছে। উখিয়া ও রামু উপজেলার বৌদ্ধ বিহার, ইনানী সী-বীচ, হিমছড়ির ঝর্না, কুতুবদিয়ার বাতিঘর, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক সহ পর্যটনখাতগুলো বর্তমানে আগের তুলনায় শূণ্যতা বিরাজ করছে।

হোটেল-মোটেল জোনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের আনা-গোনা নেই বললেই চলে। তদুপরি ঈদকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলে আগাম বুকিংয়ের সংখ্যাও কমে গেছে। কক্সবাজারে প্রায় ৫০০ শতাধিক হোটেল মোটেল রয়েছে। যার পর্যটক ধারণ ক্ষমতা দেড় লক্ষ। কিন্তু এবারের ঈদে সবমিলিয়ে মাত্র ২০ শতাংশের কম সংখ্যক রুম বুকিং হয়েছে বলে জানান তারা। যা গত বছরে কোরবানী ঈদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশেরও কম।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার গণমাধ্যমকে বলেন, এই সংকট চলমান থাকলে কক্সবাজার পর্যটন ব্যবসায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই পর্যটন মন্দার ভাব কাটিয়ে উঠার জন্য কক্সবাজারে পর্যটক টানতে আমাদেরকে নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি বলেন, পর্যটক আগমনে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আমরা কক্সবাজারে পর্যটক মন্দা সহসা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *