ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
ভূমিহীন নন, আছপিয়ারা ‘প্রায় ২ বিঘা’ জমির মালিক
ডেস্ক রিপোর্ট ::

বরিশাল পু‌লিশ লাইনসের ফটকের সামনে বিষণ্ন মুখে বসে থাকা আছপিয়া ইসলামের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল দুই দিন ধরে। পুলিশের কনস্টেবল পদে উত্তীর্ণ হয়েও স্থায়ী ঠিকানার ‘ভুল তথ্য’ দেয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের ধাপ পার করতে পারেননি এই তরুণী।

তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেছিলেন, হিজলায় জমি নেই বলেই চাকরি হয়নি। তার এই ক্ষোভের কথা গিয়ে ঠেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত।

বরিশালের জেলা প্রশাসক শুক্রবার জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আছপিয়ার চাকরি নিশ্চিত করার। এমনকি হিজলায় মেয়েটির জন্য ঘর বানিয়ে দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। চাকরির বিষয়টি দেখতে জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। আর ঘর বানিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ভোলার চরফ্যাশনে পৈতৃক সূত্রে ৬৪ শতাংশ বা প্রায় দুই বিঘা জমি আছে আছপিয়াদের।

আছপিয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম ভোলার চরফ্যাশনের আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল হোসেনের ছেলে। কাজের সূত্রে প্রথমে পিরোজপুরে এবং পরে বরিশালের হিজলা উপজেলায় এসে ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন তিনি।

হিজলায় আছপিয়ার আত্মীয় আব্দুল হামিদ জানান, হিজলা উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাড়িতে সংসার গড়েন শফিকুল। সেখানেই জন্ম আছপিয়ার। ২০১৯ সালে শফিকুলের মৃত্যু হয়। এর পর থেকে আছপিয়া ও তার পরিবার হিজলার খুন্না-গোবিন্দপুর ইউনিয়নে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

 

মৃত্যুর পর শফিকুলকে দাফন করা হয় ভোলার চরফ্যাশনে, পারিবারিক জমিতেই। সেখানে আছপিয়া ও তার মায়ের যাওয়া-আসাও আছে নিয়মিত।

আছপিয়ার মেজো চাচা মোশাররফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শফিকুলের সরকারি চাকরি হওয়ায় প্রথমে সে পিরোজপুরে যায়। সেখানেই বিয়ে করে। এরপর বরিশালের হিজলায় ট্রান্সফার হওয়ার পর সেখানেই বসবাস শুরু করে।

‘দুই বছর হয়েছে শফিক মারা গেছে। জমি ভাগাভাগি হওয়ার পর আছপিয়ারা চরফ্যাশনে ৬৪ শতাংশ জমি পেয়েছে। এর মধ্যে ১৪ শতাংশ বাড়ির এবং বাকিটা বিলের জমি। বিলের জমি হামিদ সরদারের কাছে বর্গা দেয়া রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাস তিনেক আগেও আছপিয়ার মা ঝর্ণা বেগম এখানে এসেছিলেন। আমাদের সঙ্গে সব সময়ই যোগাযোগ রয়েছে।’

বাবাকে চরফ্যাশনে দাফনের কথা স্বীকার করেছেন আছপিয়াও।

চরফ্যাশনে জমি থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ভূমিহীন কেন দাবি করলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দাদা বাড়ি চরফ্যাশনে। আমি তিন-চারবার সেখানে গিয়েছি। চরফ্যাশনে আমাদের জমি রয়েছে। তবে সেখানে আমি স্থায়ী নই। কী পরিমাণ জমি আছে তা আমি ঠিক জানি না।’

আছপিয়ার মা ঝর্ণা বেগমকেও একই প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘চরফ‌্যাশ‌নে শ্বশুরবা‌ড়ি‌তে তেমন যোগাযোগ নেই আমাদের। হ‌্যাঁ, তিন মাস আগে গেছিলাম আমার বড় জা মারা যাওয়ায়।

‘ওখানে জ‌মিজমা রয়েছে, তবে তা আমরা ভোগদখল ক‌রি না। আমি না পারলে ওখানে যাই না। আমার স্বামী ঠিকাদা‌রি কাজ করতেন। হিজলাতেই সব কাজ করতেন। আমরাও স্থায়ী হিজলাতেই। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আগে তার কোথায় কী জমি আছে, তা আমাকে বুঝিয়ে দেননি। তাই আমি এসব কিছু জানি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *