ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
‘বদলে যাওয়া কক্সবাজার’ উৎসব কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট ::

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ গত বছরের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘে অনুমোদন পেয়েছে। স্বাধীনতার পর অবকাঠামো ও বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান কক্সবাজারের চিত্রও পাল্টে গেছে এক দশকে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের জেলায় ছোট-বড় ৭৭টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এতে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। সাগরছোঁয়া রানওয়ে, মুক্তার রঙে ঝিনুকের মতো রেলস্টেশন, অর্থনীতির গেম চেঞ্জার গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ, জেলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামসহ নানা রকম প্রকল্প নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে কক্সবাজার।

বদলে যাওয়া কক্সবাজারের এসব সাফল্য তুলে ধরে বৃহস্পতিবার (৩১) মার্চ সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ‘উন্নয়নের নতুন জোয়ার, বদলে যাওয়া কক্সবাজার’ উৎসব। যেখানে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতাসংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের ইতিহাস।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের আয়োজনে জমকালো উৎসবটি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি শেষ হওয়া প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

এদিন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সৈকতের অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে মহামারি কাটিয়ে চাঙা পর্যটনশিল্প। প্রতিদিন ফেনিল সাগরের তীরে ভিড় করেন হাজার হাজার পর্যটক। এবার সৈকতে ‘উন্নয়নের নতুন জোয়ার, বদলে যাওয়া কক্সবাজার’ উৎসবে লাখো মানুষের জমায়েত আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে উৎসব বাস্তবায়ন করছে জেলা প্রশাসন। উৎসবে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হবে। এর বাইরে বেড়াতে আসা পর্যটকরা তো রয়েছেনই। নানা রকম সাজসজ্জা ও মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছে সাগরতীরে। অনুষ্ঠানস্থলে চারটি স্টল বসানো হবে। যেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রী ও কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হবে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব
এদিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন প্রেরিত অনুষ্ঠানমালার সূচিতে এই উৎসবকে দুই পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্ব সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। তখন জাতীয় সংগীত পরিবেশন, স্বাগত বক্তব্য, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বিষয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় কবিতা আবৃত্তি করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা। এরপর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান ও পল্লিসংগীত, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে স্কুলশিক্ষার্থীদের সংলাপ, স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পরে স্কুলপর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। বেলা পৌনে একটায় স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। অতিথিদের আগমনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর রয়েছে স্থানীয় শিশু শিল্পীদের অংশগ্রহণে সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনা। এরপর ‘জোরশে চলো বাংলাদেশ’ বাংলাদেশ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।

সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে স্থানীয় উন্নয়নের ওপর হবে উপস্থাপনা। এতে বক্তব্য রাখবেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ডা. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় উন্নয়নের সুবিধাভোগীদের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বক্তব্য রাখবেন।

সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে ‘ও জোনাকি’ গানের ভিডিও চিত্র চিত্রায়ণ করা হবে। এরপর ৭টা ২০ মিনিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য ও সৈকতের আকাশ রাঙানো হবে হরেক রঙের আতশবাজিতে। সবশেষে মঞ্চ মাতাবেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ও চিরকুট।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে যেহেতু উৎসবটি হচ্ছে, এতে অনেক পর্যটকের সমাগম হবে। এ জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচ কর্মী মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘে অনুমোদন পায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়। উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাঁচ বছর প্রস্তুতির সময় পেয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গণ্য হবে বাংলাদেশ।

১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে। সিডিপির তিন সূচকে বাংলাদেশ সব শর্ত পূরণ করে। উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার। ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হতে ৬৬ পয়েন্ট প্রয়োজন। বাংলাদেশের পয়েন্ট ২০২০ সালে ছিল ৭৫.৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *