ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
প্রশস্ত মেরিন ড্রাইভে প্রসার হবে পর্যটনে
মাইনউদ্দিন শাহেদ, কক্সবাজার ::

নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন, পর্যটনশিল্পের প্রসার ও এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই প্রকল্পসহ ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রথম ধাপে ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হবে। এ ছাড়া রেজুখালের ওপর তৈরি করা হবে ৩০৫ মিটারের দুই লেনের সেতু। এ প্রকল্পে মেরিন ড্রাইভের নিরাপত্তা রক্ষায় থাকছে ৬০৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা, পর্যটনশিল্পের প্রসার এবং প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই হতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। সরকারের নিজস্ব তহবিলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত করা হবে। রেজুখালের ওপর বিদ্যমান ৩০৫ মিটার দীর্ঘ লোহার সংকীর্ণ সেতুর স্থলে ১০ দশমিক ২৫ মিটারে (দুই লেন) উন্নীত করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১১৩ দশমিক ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৭ লাখ ২৪ হাজার ঘনমিটার মাটি ভরাট, ২৯ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও শূন্য দশমিক ৩২ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট বাঁক সরলীকরণ কাজ; নির্মাণকাজের মধ্যে ৬ হাজার ৪৮০ মিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, ৬৩ হাজার ৭২০ বর্গমিটার জিও টেক্সটাইলসহ সিসি ব্লক স্থাপন, ৫৪ হাজার ৩৬০টি টেট্রাপড নির্মাণ, ৯ হাজার ১২০ বর্গমিটার রোড মার্কিং, ইউটিলিটি স্থানান্তর, পানি নিষ্কাশনের জন্য ৯ হাজার ১৮০ মিটার এল ড্রেন ও ১৩ হাজার ৯৪ মিটার ইউ ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সড়কজুড়ে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ৬০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই দিক দিয়েই বাড়ানো হবে। এটি দেখার মতো একটি প্রকল্প হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এখানে মন খুলে হাঁটতে পারবেন, প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে পারবেন।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তফা মুন্সী আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়কটি তাদের হলেও এখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রশস্তকরণ কাজও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর ও রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কের প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটনশিল্পের প্রসার ও এলাকার আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *