ঢাকা, রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
‘পুলিশের চাকরি ২৪ ঘণ্টার, ৯টা-৫টা অফিস হবে না’
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করে ৯টা-৫টা অফিসের প্রত্যাশা অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। কেউ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োজিত থাকার চেয়ে অন্য কোথাও ‘উন্নত জীবনের’ আশা করলে তাকে সম্মানের সঙ্গে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ১৭/১৮ ঘণ্টা ডিউটি করেন একজন কনস্টেবল। আপনাদের সাংবাদিকদের কী ধারণা— ডিএমপি কমিশনার দুই ঘণ্টা ডিউটি করে? আমাদের তো ঘুমের সময় নেই, খাওয়ার সময় নেই। আমরা যখন চাকরিতে এসেছি, জেনে-শুনে-বুঝেই এসেছি। ২৪ ঘণ্টা ডিউটির বাহিনীতে আমি ১৭ ঘণ্টা ডিউটি করছি। ২৪ ঘণ্টাই যে ডিউটি করানো হচ্ছে না, এর জন্য সদস্যদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত! পুলিশে চাকরি করে ৯টা-৫টা অফিস সম্ভব না।

সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ক্র্যাব-ওয়ালটন ক্রীড়া উৎসব-২০২১ উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশ সদস্যদের বাড়তি দায়িত্ব পালন ইস্যুতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে অনুষ্ঠানে সমালোচনা করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে মাঝে মধ্যে তথ্যের বিভ্রাট ঘটে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বেড়িয়েছে, পুলিশের সদস্যরা বিরক্ত। ১৬/১৭ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। তারা অতীষ্ঠ-বিরক্ত। ডিএমপির একজন কনস্টেবলের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন, পুলিশে এলে উন্নত জীবন পাবেন। সে জীবন তিনি পাননি। বাহিনী বেআইনি খাতে টাকা নিচ্ছে, ব্যাংকের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে— অভিযোগ করেছেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম সে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বলছি— ডিএমপি’র কোনো সদস্যের কাছ থেকে একটি পয়সাও কেটে নেওয়া হয়নি। অথচ একজন কনস্টেবলের বরাতে নিউজ করা হলো!

‘পুলিশের চাকরি ২৪ ঘণ্টার, ৯টা-৫টা অফিস হবে না’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ওই নিউজের পর আমি দুই ঘণ্টা ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি, তোমরা যখন চাকরিতে আসছ তখন জেলায় কত জন আবেদন করেছিল? কেউ কেউ বলছে তিন হাজার। সেখানে চাকরি হয়েছে কতজনের? ৩০ জনের। তোমাদের কি জোর করে চাকরিতে আনা হয়েছিল? তারা বলেছে, না। উন্নত জীবন আশা করেছিলে, কিন্তু পাওনি? উন্নত জীবন যেখানে পাও আবেদন করো। সম্মানের সঙ্গে চাকরি থেকে তোমাদের বিদায় করে দেবো।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসি পাস করে পুলিশে এসেছ। পায়ের জুতা থেকে শুরু করে মাথার টুপি পর্যন্ত সরকার বিনা পয়সায় দিচ্ছে। বিনা পয়সায় খাচ্ছ, ব্যারাকে বিনা পয়সায় থাকছ। আবার সরকার তোমাকে বাসা ভাড়াও দিচ্ছে। তুমি যেখানে যাচ্ছ, সেখানে গাড়ি তোমাকে পৌঁছে দিচ্ছে, খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। হ্যাঁ, মানসিক চাপ আছে। কাজ করতে গেলে এই চাপ-পরিশ্রম পুলিশে থাকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *