ঢাকা, বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
নির্বাচন করতে নেমে দুই প্রার্থী জানলেন তারা ‌‘মৃত’
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :
মো. কমর আলী ও তার চাচাতো ভাই আলী আহমদ  ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর।এরমধ্যেই তারা জেনেছেন, ভোটার তালিকায় তাদের নামই নেই। তাদের মৃত দেখানো হয়েছে।

এতে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তারা আবার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘলী ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।আলী আহমদ বলেন, হোসাইন আহমদ ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার।
তিনি আমার চাচাতো ভাই। গত নির্বাচনে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন একই গ্রামের মো. কমর আলী। তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে আমি প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু পাড়ার সবাই মিলে বৈঠক করে আমাদের দুজনের মধ্যে একজনকে প্রার্থী হতে বলেন। তখন সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোসাইন আহমদ প্রার্থী হন। সেদিনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার হোসাইনের বদলে প্রার্থী হওয়ার কথা আমার। কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার তালিকায় আমার নম্বরের খোঁজ করতে গিয়ে দেখি, আমার নামই নেই। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখি আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে।
কমর আলী বলেন, গত বছর সামান্য ভোটের কারণে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। এবার নির্বাচনের জন্য আগে থেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু নির্বাচনের মনোনয়ন প্রস্তুত করতে গিয়ে দেখি ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই। পরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারি আমি নাকি মৃত।কমর আলী ও আলী আহমদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নির্বাচন অফিসে টাকা দিয়ে বর্তমান ইউপি মেম্বার হোসাইন আহমদ ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম বাদ দিয়েছেন। এটির দ্রুত সমাধান নাহলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেবো।

ইউপি মেম্বার হোসাইন আহমদ বলেন, কমর আলী ও আলী আহমদ আমার ওপর মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমি তাদের ‘মৃতের’ বিষয়ে কিছুই জানি না। মৃত্যু সনদ দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এটা চেয়ারম্যান দিয়ে থাকেন।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ–সৈদেরগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। তারা কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। তবে এ কাজ যারা করেছেন তাদের শাস্তি দিতে হবে।

ছাতক উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান বলেন, এটা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় হতে পারে। তখন আমি ছাতকে কর্মরত ছিলাম না। তাই এটা কে করেছেন, সেটা আমি জানি না। তবে যে দুজনের নাম বাদ পড়েছে, তারা আবার নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেছেন। এগুলো অনুমোদনের জন্য কমিশনে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে অনুমোদন হলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ১৯ ইউপিতে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আগামী ১১ নভেম্বর।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *