ঢাকা, রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
দাদা-দাদির পাশে চিরঘুমে হাদিসুর
ডেস্ক রিপোর্ট ::

ইউক্রেনে রকেট হামলায় নিহত ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বাড়ির পাশের মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়ি থেকে কফিন নামিয়ে জানাজার জন্য প্রস্তুত করা হয়। সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির সামনে মাঠে নিয়ে রাখা হয়।

এ সময় তাকে একনজর দেখতে স্বজন ও এলাকাবাসীসহ হাজারো মানুষ ভিড় করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে হাদিসুরের মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়ি গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। রাতে বাড়ির ভেতরে ঘরের সামনে আঙিনায় গাড়িটি রাখা হয়।

হাদিসুরের জানাজায় বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান, বেতাগী পৌর মেয়র মো. গোলাম কবীর, বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহআলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নৌ, র্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদিসুর রহমানের জানাজায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি বরিশালের কমান্ডেন্ট ক্যাপ্টেন আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা হাদিসুরের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ক্যাপ্টেন আতিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের কল্যাণে জাহাজে গিয়েছিলেন হাদিসুর রহমান। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

বরগুনা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, হাদিসুরকে হারিয়ে পরিবারটি এখন অসহায়। আমরা তার ভাইদের যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।

দাদা-দাদির পাশে চিরঘুমে হাদিসুর

চলতি মাসের ২ তারিখে ইউক্রেনে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। ৩ মার্চ অক্ষত অবস্থায় জাহাজটি থেকে ২৮ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদ বাঙ্কারে রাখা হয়। সেখান থেকে তাদের প্রথমে মলদোভা, পরে রোমানিয়া নিয়ে আসা হয়।

গত ৯ মার্চ ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ইউক্রেন থেকে ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও তখন হাদিসুর রহমানের মরদেহ আনা সম্ভব হয়নি। তার মরদেহ ইউক্রেনে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছিল।

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে ২৮ জন নাবিক নিয়ে আটকা পড়ে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এই জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটির ইউক্রেন থেকে সিরামিকের কাঁচামাল নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *