ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
চুনোপুঁটিদের নিয়ে বেশি টানাহ্যাঁচড়া করছে দুদক : ড. ইফতেখারুজ্জামান
ডেস্ক রিপোর্ট ::

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি প্রতিকারমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় দুদককে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে দেখা যায় না। এ ক্ষেত্রে চুনোপুঁটিদের নিয়ে বেশি টানাহ্যাঁচড়া করা হচ্ছে। রুই-কাতলা, যারা মূলত দুর্নীতির জন্য দায়ী, তারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
ভয়-করুণার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিকারের জন্য যে কাজগুলো করতে হয়, সেখানে আমাদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি যারা দুর্নীতি করে, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে- এ ধরনের ব্যক্তিদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহির সঙ্গে বা ভয়-করুণার ঊর্ধ্বে থেকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এটি না করতে পারলে শুধু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সুফল পাওয়া যাবে না। আবার শুধু প্রতিকারমূলক কার্যক্রম চালালেও সুফল আসবে না। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ মূলত বহুমুখী কার্যক্রমের বিষয়। জাতিসংঘের প্রতিপাদ্যে এ কথাটিই বলা হয়েছে।
সব দুর্নীতিবাজকে বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান- যারা দুর্নীতি করে, এই নীতিতে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে। দুর্নীতি দমনে দুদকের ঘাটতি, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দুদক যেসব পদক্ষেপ নেয়, সেখানে তাদের মূলত ছোট ছোট দুর্নীতির পেছনে শ্রম ও সময় ব্যয় করতে দেখা গেছে। মেগা দুর্নীতি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। এ কারণে দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হবে- সমাজে এই বার্তা পৌঁছাচ্ছে না।
শূন্য সহিষ্ণুতার ঘোষণা নিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার ঘোষণা দিয়েছেন- দুর্নীতি দমনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এখানে কথা হলো, এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী একা বাস্তবায়ন করবেন না। দুদকসহ দুর্নীতিবিরোধী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অকার্যকরতা, ঘাটতি, গাফিলতি, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, যোগসাজশের কারণে ওই ঘোষণা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। আরেকটা বিষয় হলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা, সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কথা বলার পরিবেশ সংকুচিত হয়ে এসেছে। এটি চলতে থাকলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ- দুটোই ব্যাহত হবে। দেশের সব নাগরিকসহ পুরো সমাজকে সম্পৃক্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আপনার অধিকার, আপনার ভূমিকা :দুর্নীতিকে না বলুন’- এটি দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। জাতীয় আয়ের ওপর প্রভাব পড়ে, আর্থসামাজিক ক্ষতি হয়। দুর্নীতির কারণে মানুষকে জীবনও দিতে হয়, সেই উদাহরণও আছে- রানা প্লাজা, তাজরীন, চুড়িহাট্টার দুর্ঘটনা দুর্নীতিরই প্রতিফলন। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে যে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত হয়েছে। করোনা চিকিৎসার বাইরেও মানুষ স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরত এসেছে- এমন উদাহরণও আছে। করোনা দুর্যোগের সময় যাদের নগদ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তারা সমাজের সর্বনিম্ন পর্যায়ের মানুষ। তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে এগিয়ে এসেছেন। এ ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। অতিদরিদ্র মানুষকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী অবাধে চুরি করা হয়েছে। এই দুর্নীতির কারণে কারও মৃত্যু হয়েছে কিনা, তারা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলেন কিনা- এ তথ্য বের করা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে মানুষের বাঁচা-মরার বিষয়টি স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *