ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
ঘুস কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন রামুর মহিলা মেম্বার লিপি
ডেস্ক রিপোর্ট ::

নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় ফেঁসে যাচ্ছেন কক্সবাজারের রামু উপজেলা ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার তাসলিমা আক্তার লিপি। তার বিরুদ্ধে টিসিবির মালামাল ক্রয়ের কার্ড বিতরণে শতাধিক উপকারভোগী কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

অভিযোগ উঠেছে- ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার লিপি অন্তত ৮০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩শ থেকে ৪শ টাকা করে ঘুস নিয়েছেন। এ নিয়ে পুরো এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পরিষদের চেয়ারম্যান ও ৬ জন ইউপি সদস্য লিপির বিরুদ্ধে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা।

খালেদা বেগম নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, লিপি আমাকে বলেছেন ৩০০ টাকা করে কার্ডের ফি ধার্য করা হয়েছে। সবাই টাকা দিয়ে কার্ড নিচ্ছে দেখে আমিও তাকে টাকা দিয়েছি। পরে জানতে পারি এটি সরকারি ফ্রি কার্ড। কোনো মেম্বারই কার্ডের জন্য টাকা নিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে চেয়ারম্যান এবং ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। এমন কথা বলেছেন অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী।

ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, কার্ড প্রদানের সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে মহিলা মেম্বার লিপিকে নিষেধ করেছি, সাবধান করেছি। এরপরও তিনি সবার কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য ইউপি সদস্যদের মতোই তাকে কার্ড পরিষদ থেকে প্রদান করা হয়। কিন্তু কোনো ইউপি সদস্য এরকম কাণ্ড ঘটায়নি। সে সবার কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে বলে জেনেছি।

চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, অর্থ আদায়ের কারণে আমার ও পরিষদের মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে পরিষদের প্যাডে আমি এবং আরও ৬ জন ইউপি সদ্য মিলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইউএনও মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাসলিমা আক্তার লিপি। তিনি বলেন, দুই মাস হয়েছে আমি মেম্বার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি জানি না।

এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, মহিলা মেম্বার লিপি টিসিবির কার্ড বিতরণে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে জনপ্রতি ঘুস নিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। চেয়ারম্যান মেম্বারদের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদেরও আমি অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *