ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
‘খরচ ছাড়া’ কোনো সেবা মেলে না চেয়ারম্যানের কাছে
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহেনারা পারভীন পান্নার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য ও ভুক্তভোগী ৯ জন তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তারা উপজেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইনে অভিযোগ করেছেন

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান মাহেনারা পারভীন সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ‘খরচাপাতির’ নামে টাকা আদায় করেন। বিধবা, বয়স্ক ও মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিনামূল্যের সরকারি ঘর দিতে উপকারভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আর ইউপি সদস্যরা জানান, পরিষদের কাজে সদস্যদের সঙ্গে তিনি কোনো সমন্বয় করেন না। কোনো কাজেই সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। মনগড়া তিনি পরিষদ চালাচ্ছেন। গেল বছর এ ইউনিয়নে ১০ টাকা মূল্যে চালের ৭০৫টি কার্ড বরাদ্দ হয়। সদস্যদের না জানিয়েই চেয়ারম্যান ১৯১টি কার্ড বাতিল করে দেন। বাকি কার্ডগুলো থেকে ৫০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত করে নিয়ে অনুমোদন দেন। বাতিল হওয়া কার্ডগুলোর সুবিধাভোগীরা এ নিয়ে তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ইউনিয়নের উত্তর মজুপুর গ্রামের ভাঙারি ফেরিওয়ালা শহিদ উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড়ে আমার বসতঘর ভেঙে যায়। চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যকে নিয়ে পরিদর্শন করেন। তখন আমাকে সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পরে আমার কাছ থেকে চেয়ারম্যানের ছেলে টাইপুন ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। ঘর নির্মাণের জন্য ইট-টিনসহ বিভিন্ন মালামাল আনতে আমাকেই গাড়ি ভাড়া দিতে হয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর শারীরিক প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার কাছ থেকেও চেয়ারম্যানপুত্র সরকারি ঘর বরাদ্দ দেবেন বলে ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তবে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে দিলেও মেঝে আমাকে নিজ খরচেই পাকা করতে হয়েছে।

পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এমরান হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। প্রথমবার সাড়ে ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করলে সেখান থেকে ১৫০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ২৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা ও তৃতীয়বার ৯ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা নেন তিনি। মোটকথা খরচ ছাড়া কোনো সেবা মেলে না তার কাছে।

একই গ্রামের তাহমিনা আক্তার ভাতার বই করতে দেওয়ার ছয় মাসেও টাকা পাননি। টাকার জন্য বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বর দিলেও এখনো টাকা আসেনি। তাহমিনার মতো দক্ষিণ হাজিপুর গ্রামের শারমিন আক্তারসহ আরও অনেকের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য মহসিন মিঝি বলেন, দেড় বছর ধরে সম্মানী পাচ্ছেন না ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজের টাকা ঠিকই উত্তোলন করেন। এতে আমরা আর্থিক সংকটে রয়েছি। বিভিন্ন ভাতার জন্য আমরা নামের তালিকা দিলেও তা অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। টাকার বিনিময়ে তিনি ইচ্ছেমতো পছন্দের লোকজনকে সুবিধা দেন। আমাদের কিছু না জানিয়েই তিনি খামখেয়ালিভাবে পরিষদ পরিচালনা করেন।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে মুঠোফোনে ইউপি চেয়ারম্যান মাহেনারা পারভীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, করোনাকালীন ট্যাক্স ওঠাতে না পারায় ইউপি সদস্যদের ভাতা দেওয়া যায়নি। আর সরকারি ঘর ও ভাতার ব্যাপারে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ, তা সত্য নয়। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপ্তি চাকমা বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। যদি এমন অভিযোগ আসে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *