ঢাকা, শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
কুতুপালং বাজারে ব্যবসার আড়ালে রোহিঙ্গাদের ইয়াবা বানিজ্য !
সরওয়ার আলম শাহীন :

উখিয়া উপজেলার কুতুপালং বাজারে বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে চলছে রোহিঙ্গাদের ইয়াবা বানিজ্য। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কুতুপালং বাজারে দোকান রয়েছে প্রায় দুই হাজারের উপরে। রোহিঙ্গাদের মোবাইল দোকান, মুদির দোকান, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, স্বর্ণের দোকান রয়েছে প্রায় হাজারখানেক। কাঁটাতারের বাইরে এসে দোকানগুলোতে রোহিঙ্গারা দোকানদারি করছে। এসব দোকানে দিনভর লোকদেখানো বেচাবিক্রি হলেও সন্ধ্যার পরে চলে ইয়াবা বানিজ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উখিয়ার কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশেই বিশাল কুতুপালং বাজারে রয়েছে কয়েকটি মার্কেট। বাজারের ভেতরে একটি দোকানের নাম ‘এডি স্টোর’। এ দোকানটি পাইকারি। বার্মিজ ও থাই পণ্যে ভরা দোকানটিতে মিলছে পোল মার্ক ব্র্যান্ডের ৮ হাজার টাকা দামের গেঞ্জি। রয়েছে ডাকস্, লন্ডন ব্র্যান্ড, কেঅ্যান্ডজি ব্র্যান্ডের গেঞ্জি। একই মার্কেটের খালেদ ক্লথ স্টোরে পাওয়া যায় ১৫ হাজার টাকা দামের লেহেঙ্গা, ১০ হাজার টাকা দামের শাড়ি। রোহিঙ্গা মালিকানাধীন এ দোকান।

শুধু এডি স্টোর নয়, এমন অনেক অভিজাত কাপড়ের দোকান রয়েছে । আছে অন্তত ২৫টি জুয়েলারি শোরুম, ১০টি বিউটি পারলার, দুইশর বেশি দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল শোরুম। এসব দোকানের অধিকাংশের মালিক রোহিঙ্গা।
বিশেষ করে কুতুপালং বাজারের প্রভাবশালী রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী ইদ্রিস, ইমাম হোসেন, ইলিয়াছ,সাদেকের রয়েছে বিশাল মোবাইল শো রুম। এসব শোরুমে দিনভর পাইকারি মোবাইল বেচাকেনা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ইয়াবা বানিজ্য। এসব দোকান থেকে পাইকারি ইয়াবা বিক্রি হয় বলেও তথ্য মিলেছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গারা এসব দোকানের আড়ালে ইয়াবা বানিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে। কাঁটাতারের ভিতর থেকে রোহিঙ্গাদের আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় রোহিঙ্গারা কুতুপালং বাজারকে টানিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়। তাই একজনে একাধিক দোকান নিয়ে বসেছে কুতুপালং বাজারে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর থেকে এপিবিএন পুলিশ বাজার উচ্ছেদ করার ফলে এসব রোহিঙ্গাদের বিশাল অংশ কুতুপালং বাজারে এসে দোকান খুলে বসেছে। মূলত তারা দোকানের আড়ালে ইয়াবা বাণিজ্যে ব্যস্ত বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ডা. আজিজ। কুতুপালং বাজারে ওষুধের দোকানের আড়ালে রয়েছে তার মাদক ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা।
একই ক্যাম্পের আরেকজন রোহিঙ্গা ডা. ওসমান। কুতুপালং বাজারে রয়েছে দোকান। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে দুটি মাদক মামলা। বর্তমানে তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধের মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ১৪ এপিবিএনের পুলিশ সুপার নাঈমুল হক জানান, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতর থেকে বাজারগুলো আমরা উচ্ছেদ করেছি, এসব বাজারে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছিল। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। যদি রোহিঙ্গারা বাইরে এসে এসব অপকর্ম আবার করার চেষ্টা করে তাহলে নজরদারির মাধ্যমে এসব অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *