ঢাকা, বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজার বাণিজ্য মেলায় চলছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য
সরওয়ার আলম শাহীন :

সম্প্রতি শুরু হওয়া কক্সবাজার বাণিজ্য মেলায় চলছে সিন্ডিকেট বাণিজ্য। শুরু হওয়া এ মেলাতে বাহারি কোন জিনিসপত্র এখন পাওয়া না গেলেও নেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ২০ টাকা করে প্রবেশ মূল্য। মেলার ভিতরে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে,মেলার প্রবেশ মুখেই রয়েছে টমটম ও ব্যাটারিচালিত রিকশা সিন্ডিকেট, এসব রিকশা ও টমটমগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয় বলে যাত্রীদের অভিযোগ। মেলার সামনে দাঁড়ানো টমটম বা রিক্সা থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মেলা কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে।
টমটম বা রিক্সা থেকে নেমে প্রবেশমুখে রয়েছে আর একটি সিন্ডিকেট। টিকেট বিক্রি ও টিকেট চেক করা নিয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেটের নাম ভলান্টিয়ার সিন্ডিকেট। স্থানীয় ছেলেপেলে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীরা সিন্ডিকেটের সদস্য। এ সিন্ডিকেটের আরেকটি কাজ হচ্ছে মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দেখা যায়,মেলার প্রবেশ মুখে স্থাপন করা দুটি বুথ থেকে নিতে হয় টিকেট। প্রতিটি টিকেটের মুল্য ২০ টাকা। সবেমাত্র শুরু হওয়া এই মেলা এখনো জমে না উঠলেও টিকেটের দাম কমেনি। প্রতিদিনের টিকেটের টাকার ভাগ কোথায় যায় ভলান্টিয়ার সদস্যরা জানেন না। তারা শুধু এতটুকু জানালেন বাণিজ্য মেলা কমিটির নেতা নাসির ভাইয়ের নির্দেশে এ টাকা তোলা হচ্ছে। মেলার ভেতরে বাণিজ্য পণ্যের তেমন জৌলুস না থাকলেও রয়েছে শিশু কিশোরদের বাহারি রাইডস। রাইটসে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা।
কক্সবাজার লিংকরোড থেকে স্বপরিবারে বাণিজ্য মেলা দেখতে আসা রাইসুল ইসলাম জানালেন,এখানে তেমন চাহিদামত জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে না, তবুও এটার নাম কেন বানিজ্য মেলা হলো বুঝলাম না। এটার নাম শিশুপার্ক দেওয়া হলে ভালো মানাতো।
কক্সবাজার বাংলা বাজার থেকে সপরিবারে দেখতে আসা জসীমউদ্দীন জানালেন, মেলায় এসেছিলাম বাইরের জিনিসপত্র পাওয়ার আশায়। কিন্তু প্রতিজন ২০ টাকা করে মেলায় প্রবেশ করে দেখা গেল “শিশুদের জন্য কিছু রাইটস “দুটি চটপটির দোকান, দুটি আচারের দোকান, আর কিছু স্থানীয় কাপড় ও নিত্যপণ্যের দোকান,”যাতে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য “।শিশুদের রাইটসগুলোতে প্রতিজন ৫-১০ মিনিটের জন্য নেওয়া হচ্ছে ৫০-১০০ টাকা করে। তাছাড়া যে কাপড় কক্সবাজার হকার মার্কেটে ৩০০ টাকা, সে কাপড় কক্সবাজার বানিজ্য মেলায় নেওয়া হচ্ছে ১০০০ টাকা। ৫০০ টাকার নিচে কোন কাপড় নেই।
জানা যায়, শিশুদের এসব রাইডস ও কাপড় দোকান গুলোও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত। তাই যেমন ইচ্ছে তেমন দাম নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইডস সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানালেন, এসব বলে কি হবে । কোন কাজ হবেনা। আপনি হয়তো জানেন না,এ মেলায় কারা কারা জড়িত।
প্রশ্ন ছিল, কারা কারা জড়িত? একজন বললেন,কারা জড়িত নয়,স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক সবাই জড়িত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *