ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৯:০০ অপরাহ্ন
কক্সবাজার কটেজে নারীর মরদেহ; যা জানা গেল..
আজিম নিহাদ,টিটিএন, কক্সবাজার ::

কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোনের লাইটহাউজ এলাকার একটি কটেজ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্জন নামে একটি কটেজ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও কটেজ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নির্জন কটেজের ১০৬ নাম্বার কক্ষে ওই নারীকে নিয়ে উঠেন এক যুবক। পরে সকাল ১১ টায় কটেজের ম্যানেজার আব্দুল আলিম ওই কক্ষে গিয়ে দেখেন বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলানো। পরে কক্ষের ভেতর গিয়ে দেখেন মৃত অবস্থায় খাটে পড়ে রয়েছেন ওই নারী। তার গলায় উড়না পেঁচানো এবং হাত বাঁধা অবস্থায় দেখেন তিনি।

কটেজে গিয়ে ওই নারী ও তার সঙ্গে থাকা পুরুষ সঙ্গীর পরিচয় জানতে চাইলে কটেজের রেজিস্ট্রার খাতায় তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। কটেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নাম পরিচয় বা কোন ধরণের তথ্য সংরক্ষণ করেনি।

এই বিষয়ে কটেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আব্দুল আলিম বলেন, ‘তারা হঠাৎ রাত সাড়ে ৩ টার সময় কক্ষ ভাড়া নিতে আসেন। রাত বেশি হওয়ায় সকালে নাম পরিচয় নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১১ টায় ওই কক্ষে গিয়ে দেখি নারীর মরদেহ পড়ে রয়েছে। ওই যুবক কোন সময়ে হোটেল ছেড়ে পালিয়ে গেছে তা তারা দেখেননি।’ তার দাবী, ওই নারীকে খুন করে পালিয়ে গেছে সঙ্গে থাকা যুবক। তার ধারণা, যুবকের বয়স ২৫ বছর এবং ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২২ বছর।

এদিকে ঘটনাস্থলে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলামের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, খবর পেয়ে তারা মরদেহটি উদ্ধার করার জন্য সেখানে যায়। পরে তিনি সিআইডি, পিবিআই এবং ট্যুরিস্ট পুলিশকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য কাজ শেষ করে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

তিনি আরও বলেন, কটেজ কর্তৃপক্ষ ওই নারী এবং তার সঙ্গে যে যুবক ছিল বলে দাবী করা হচ্ছে তাদের কোন ধরণের তথ্য সংরক্ষণ করেননি। তাছাড়া কটেজে সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। খুনের রহস্য উদঘাটন এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।

ওই কটেজে মাসিক ভাড়া থাকেন রোকসানা আক্তার (২৬) নামে এক নারী। কটেজের বাইরে তার সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ‘নিহত ওই নারীর নাম মীম। সে (মীম) সমুদ্রসৈকত ও কটেজজোন এলাকায় যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করেন। বুধবার রাত ৩ টার সময় কটেজের বাইরে তারা (মীম ও তার সঙ্গী) ঝগড়া দেয়। এক পর্যায়ে নিজেরা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে যায়। পরে নির্জন কটেজে ঢুকে যান।’

শাহানা আক্তার নামে আরেকজন নারী জানান, মীমের সাথে যে ছেলেটি ছিল তার নাম মোবারক। মোবারকের বাড়ি শহরের পাহাড়তলী এলাকায়। শাহানা দাবী করেন, তার বাড়িও পাহাড়তলী মোবারকের বাড়ির পাশে। মোবারক কটেজজোন এলাকায় ছিনতাই ও খুচরা ইয়াবা বিক্রির সাথে জড়িত বলে দাবী করেন তিনি।

জানা গেছে, নির্জন নামে ওই কটেজটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন জুয়েল ও সোহেল নামে দুই ব্যক্তি। জুয়েলের বাড়ি ফেনী এবং সোহেলের বাড়ি কক্সবাজার। মরদেহ উদ্ধারের সময় জুয়েলকে কটেজে দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *