ঢাকা, শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারে হামলায় আ.লীগ নেতাসহ আহত ১০, বিজিবি মোতায়েন
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় নৌকার প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের সংবর্ধনায় যাওয়ার পথে গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর স্টেশন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে এনামুল হক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। অপর আহতরা জনসভায় যোগ দিতে যাওয়া সাধারণ মানুষ। তাদের তাৎক্ষণিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানায়, বুধবার দুপুরে চকরিয়া পৌরশহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদের সংবর্ধনায় যাচ্ছিলেন সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এনামের নেতৃত্বে ৫ শতাধিক লোক। এ সময় সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবী হোছাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র লাঠি, হকিস্টিক ও লোহার রড় নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ভাঙচুর করা হয় তাদের বহনকারী ৮টি গাড়ি। আহত হন মেম্বারসহ ১৩ জন।

মাতামুহুরী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সিআইপির সংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার জন্য সাহারবিল থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষ গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার পথে নবী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়েছে। এ সময় খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার আলমসহ আমরা ঘটনাস্থলে গেলে সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান নবী হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ক্যাডার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা করে। এ সময় সাহারবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক মারাত্মকভাবে আহত হন। তারা ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে জানান মহসিন বাবুল।

এদিকে সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান নবী হোসেন ও তার ক্যাডার বাহিনীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিক মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় শত শত মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ম্যাজিস্ট্রেট রাহাতউজ্জামানের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, হামলার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নবী হোছাইন তার নেতৃত্বে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রামপুর স্টেশনে এনামের নেতৃত্বে আমার ওপর ও আমার সাহারবিলের শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর হামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *