ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
এমপি পদও হারাতে পারেন মুরাদ, তৎপর পুলিশ
ডেস্ক রিপোর্ট ::

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দেওয়ায় তার প্রতিমন্ত্রিত্ব শেষ হওয়ার পাশাপাশি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর ডা. মুরাদ হাসানের এমপি পদ থাকবে কি না সেটি নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। একই সঙ্গে মুরাদ হাসানকে নিয়ে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ডা. মুরাদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না জানতে চাইলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) হারুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা তদন্তের জন্য মুরাদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। উনি যে ডিবির নাম ব্যবহার করেছেন, সেটা কেন করলেন, সেটাও প্রয়োজনে জানার জন্য আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি। পাশাপাশি যাদের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, প্রয়োজন হলে তাদেরও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

দল থেকে বহিস্কার করলে কী তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে এমন প্রশ্নে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেন, আমাদের সংবিধানে আছে, কেউ যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। কিন্তু দল বহিষ্কার করলে তার সদস্যপদ যাবে না। আবার কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত হন তাহলেও তার সংসদ সদস্য পদ যেতে পারে। আমি সব সময় কথা বলি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার বিরুদ্ধে। এটা বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমি যত বাজে কথাই বলি না কেন, যত অপ্রিয় কথাই হোক, এটার জন্য ডিজিটাল আইনে মামলা হচ্ছে বলেই তো আমাদের কথাবার্তা অনেক কমে গেছে। কিন্তু উনি যে কাজটি করেছেন, তার জন্য যার মানহানি হয়েছে, তার জন্য তিনি দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারেন। এ ছাড়া ফৌজদারি মামলাও হতে পারে। এতে ভুক্তভোগীরাই মামলাটি করতে পারেন। যদিও থার্ড পার্টিও এখন মামলা করছে। এটা গ্রামারে পড়ে না। যেটা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মুলে কুঠারাঘাত হয়। আর উনি মস্তিষ্ক বিকৃত বলে যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা করতে গেলে সরকারি কোনো হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার পর চিকিৎসকের সার্টিফিকেট লাগবে যে উনি একটা ‘পাগল’। তাহলে তার সংসদ সদস্য চলে যেতে পারে।

প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুর হাবীব বলেন, ‘উনি যার উদ্দেশ্যে বলেছেন, তিনি তো ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। শুধুমাত্র কটু মন্তব্যের জন্য তার সংসদ সদস্যপদ যাওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *