ঢাকা, সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
একই কারাগারে প্রদীপ-চুমকি, দেখা হবে তাদের?
ডেস্ক রিপোর্ট ::

নিয়তি তাদের একই কারাগারে নিয়ে ঠাঁই দিয়েছে। এই দম্পতির স্বামী প্রদীপ কুমার দাশ- যিনি সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে রয়েছেন। এবার দুর্নীতির মামলায় আজ একই কারাগারে প্রেরিত হলেন স্ত্রী চুমকি কারণ। তাদের কি সাক্ষাৎ হয়েছে কিংবা সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

২০২০ সালের আগস্টে সিনহা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার। এরপর তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসতে থাকে দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের কথা। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধেও। এরপর থেকে পালিয়ে ছিলেন চুমকি কারণ। দুর্নীতির অভিযোগে প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হলেও এত দিন আদালতে হাজির হননি চুমকি।

একাধিকবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। অনেকের ধারণা, প্রদীপ গ্রেপ্তারের পর তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হঠাৎই আজ সোমবার চট্টগ্রাম আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন প্রদীপ-পত্নী। আবেদন করেন জামিনের। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রদীপ-চুমকির কি সাক্ষাৎ হবে, কী বলছে কারা কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্নীতির মামলায় প্রদীপকে এই কারাগারে আনা হয়েছে। তবে সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আসামি হওয়ায় তাকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা সব সময় থাকে। বাইরের কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ কিংবা যে কারোও সঙ্গে তার মেলামেশার সুযোগ নেই।

আর প্রদীপের স্ত্রী চুমকি সাধারণ মহিলা কয়েদিদের সঙ্গে একটি সেলে রোখা হয়েছে। সেটি গণ-হাজতি সেল। সেখানে কতজন থাকবেন নির্দিষ্ট নেই। যখন যেমন হাজতি হয়, তখন সেখানে ততজন থাকেন। চুমকি কারণ আজই এই কারাগারে এসেছেন এবং অন্য নারী বন্দিদের সঙ্গেই তাকে থাকতে হবে। কারাবিধি অনুযায়ী তিনি সাধারণ খাবারই পাবেন।

চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘তারা যতই স্বামী-স্ত্রী হোক (প্রদীপ-চুমকি) কারাগারে তাদের দেখা হবার সুযোগ নেই। কারণ প্রদীপ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত, তাই তাকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। সেখানে অন্য কয়েদিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই।’

একসময়ের দাপুটে কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় নানা অপকর্ম করে গড়েছিলেন সম্পদের পাহাড়। দুদক এই দম্পতির নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাসহ বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পায়।

কথিত আছে, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের আগরতলা, বারাসাত, গৌহাটিতে প্রদীপ দম্পতির নামে একাধিক বাড়ি রয়েছে। বিদেশে পাচার করেছেন অঢেল অর্থ। রয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট। প্রদীপ ও তার স্ত্রী-সন্তান সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। প্রদীপের পরিকল্পনায় সিনহাকে হত্যা করেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলী। এ বছরের ৩১ জানুয়ারি আলোচিত এই হত্যা মামলায় প্রদীপ-লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।

যে দুর্নীতিতে প্রদীপ দম্পতি

দুদকের দেয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। মামলায় তাকেও আসামি করা হয়। প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী বলে দাবি করলেও তার এমন কোনো ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তাদের সম্পত্তি ক্রোক, রিসিভার নিয়োগ

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক আদেশে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের নামে থাকা চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় ছয়তলা বাড়িসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর দুদকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি দেখভাল করতে রিসিভার নিয়োগ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। ২০২১ সালের ২৯ জুন প্রদীপ দম্পতির নামে থাকা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সম্পত্তি দেখভালের জন্য দুই জেলার ডিসিকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *