ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির ১৫ টি ইটভাটা চলছে প্রশাসন ও বিট অফিসের সাথে চুক্তিতে !
সরওয়ার আলম শাহীন :

কক্সবাজার ও পার্বত্যাঞ্চলের গহীন অরণ্যের লোকালয়ে ইটভাটা নিষিদ্ধ থাকলেও ক্ষমতার দাপট,স্থানীয় বিট অফিস, প্রসাশন ম্যানেজ ও আইনের ফাঁকফোকরে উখিয়া উপজেলা ও নাইক্ষ্যংছড়ির গহিন বনে গড়ে উঠেছে ১৫টি ইটভাটা। উখিয়ার হলদিয়া পালংয়ের ফজল মেম্বার , বাদশা মেম্বার, মনজুর,পলাশ বড়ুয়া, হায়দার আলী,সাগর, আবুল কালাম মেম্বার, সনু কোম্পানী, রত্নাপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানেট ইটভাটাসহ ১৫ ইটভাটার এসব মালিক ইট তৈরির ক্ষেত্রে কোনো আইনই মানছেন না।

উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িতে অবস্থিত সব ইটভাটাই গহিন বনে। পাহাড় ও টিলা কেটে বা চাষের জমির টপ সয়েল কেটে এসব ইটভাটার কাঁচামালের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির যে ১৫টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে তার প্রতিটির মালিক ইট প্রস্তুত করতে নিয়ম না মেনে পরিবেশ নষ্ট করে চলেছেন। পাহাড় কাটা, বন উজাড়করণ, কালো ধোঁয়া, ধুলাবালিতে আকাশে ধুলাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। অথচ ইটভাটা স্থাপনে সরকারের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটা করা যাবে না। আর অপরাপর স্থানে যারা ইটভাটা করবে তারা যেন লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত না করে। কেউ অনুমতি নিতে চাইলে জেলা প্রশাসক থেকেই অনুমতি নেবে। তবে কংক্রিট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি কংক্রিট কম্প্র্রেসড ব্লক তৈরিতে লাইসেন্স লাগবে না। আর কেউ লাইসেন্স ছাড়া ইট তৈরি বা ভাটা স্থাপন করলে ও পরিচালনা করলে অনধিক এক বছরের কারাদ বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দে র বিধান রয়েছে।

অথচ স্থানীয় বিট কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেপরোয়া চাদাঁবাজীর সুযোগে উখিয়া ও পাশ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে প্রতিষ্টিত প্রায় ১৫ টি অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব ইটভাটার মালিকরা শুধুমাত্র প্রশাসনের উপর নির্ভর করে কন্টাকের মাধ্যমে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে । এসব ইটভাটা মালিকদের মধ্যে রয়েছে ঘুমধুম ইউনিয়নের মেম্বার আবুল কালাম। তিনি একজন মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশাসনের সাথে চুক্তিতে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। পাশ্বেই রয়েছে সাগরের ইটভাটা। এ ইটভাটা অবৈধ উপায়ে প্রশাসনের সাথে মাসিক চুক্তিতে চলছে কোন কাগজ পত্র ছাড়া। প্রতিটি ইটভাটা চলছে প্রশাসন ও বিট কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে।
এ ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চাইলে কয়েকজন ইটভাটা মালিক বলেন, তারা উপরের নির্দেশে এ ভাটাগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। সবাইকে ম্যানেজ করে এ ইটভাটা চালাচ্ছি। ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত সর্বস্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ম্যানেজ করে এসব করছি। আমাদের ইটভাটাগুলো বৈধ।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তের পরিদর্শক মো. মঈনুল হক বলেন, ইতিমধ্যে কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির গভীর বনাঞ্চলে প্রতিষ্টিত এসব ভাটার কোনো কাগজপত্র নেই। এ সব ইটভাটার বিষয়ে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *