ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
উখিয়ায় টোকেন বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করলেন ওসি ও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ
কালের কণ্ঠ ::

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া উপজেলার ৫ কিলোমিটার এলাকায় ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

দুইটি ঘটনাতেই বেপরোয়া ড্রাম্প ট্রাকের (মিনি ট্রাক) চাকায় পিষ্ঠ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বালু ও মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত এসব ট্রাকগুলো উখিয়ার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় এখন আতংকের অন্য নাম। এলাকাটিতে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে এসব দ্রুতগামি গাড়ির কারণে। গতকাল উখিয়া থানা পুলিশ ৪ টি অবৈধ ড্রাম্প ট্রাক আটক করেছে।

মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে মহাসড়কের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় বালু বোঝাই একটি বেপরোয়া গতির ডাম্পার ট্রাকের সাথে যাত্রী বোঝাই সিএনজি ট্যাক্সির সংঘর্ষে চালক ও তিন যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সনাতন শীল নামের একজন রোহিঙ্গা হিন্দু রয়েছেন। অপর তিনজন যথাক্রমে সিএনজি চালক মোহাম্মদ আমিন, যাত্রী জিহান ও নুরুল ইসলাম। তারা সবাই উখিয়ার বাসিন্দা।

এই টোকেনে চলে অবৈধ ডাম্পার, সিএনজি ও টমটম
উখিয়ার বালুখালী এলাকার মাহমুদুল হকের পুত্র আজিজ ট্রাক চালানো শিখতে গিয়ে যাত্রীবাহী ট্যাক্সিটিকে চাপা দিলে দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার মাত্র ১০ ঘন্টা না পেরোতেই বুধবার সকাল ৮ টার দিকে একই সড়কের জাদিমুরা এলাকায় আরেকটি ডাম্পার ট্রাকের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারায় রাইয়াত বিন রাহাত (১৩) নামের এক শিশু।

রাহাত স্থানীয় রাজাপালং মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। সে মাদরাসায় যাওয়ার পথে রোহিঙ্গা শিবিরমুখি তরমুজ বোঝাই অপর একটি ডাম্পার ট্রাক তাকে চাপা দেয়। স্থানীয় জনতা ট্রাকটিসহ চালককে আটক করেছে।

সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত কিশোর

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল মনসুর চৌধুরী বুধবার সন্ধ্যায় কালের কন্ঠকে জানান-‘ আমি উখিয়ার কোটবাজার ষ্টেশনে এমুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি।

আমার সামনে ৪ টি ডাম্পার ট্রাক ত্রিপল ঢেকে দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। সবই সিন্ডিকেট গড়ে মাসিক টোকেনের মাধ্যমে সমাধা করছে অবৈধ কাজ। অবৈধ এসব যানবাহনগুলো এলাকায় একটা বড় আতংক ছড়িযে চলেছে।’

এসব বিষয় নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় স্থপিত শাহপুরি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক শাফায়েত হোসেন জানান-‘ অভিযোগ কিন্তু উড়িয়ে দেয়ার মত নয়। তবে আমি এখানে যোগ দিয়েছি চলতি মাসে। এসব অভিযোগ আমি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব। অন্তত এখানে টোকেন বাণিজ্য চলতে দেব না।’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ সঞ্জুর মোরশেদ যানবাহনে থানা পুলিশের টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, এমন কাজের কেউ প্রমাণ দিতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি জানান, অবৈধ ড্রাম্প ট্রাকগুলো আটকের অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল একদিনেই ৪ টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের অবৈধ ট্রাক ও সিএনজিগুলোও আটকের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *