ঢাকা, বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তূপ; যা বলছে বিটিআরসি
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

গ্রাহক সেবায় নির্ধারিত অবকাঠামো ব্যবহার করছে না মোবাইল অপারেটররা। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়ছে বিটিআরসিতে। সংস্থাটি বলছে, গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হলেও সমস্যা সমাধানে মোবাইল অপারেটরদের অনীহা ও দীর্ঘসূত্রিতা এখন স্পষ্ট। অন্যদিকে অপারেটরদের অভিযোগ, লাইসেন্স ফি ও তরঙ্গের উচ্চমূল্যের কারণে গ্রাহক সেবায় বিনিয়োগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

কল ড্রপ, মিউট কল কিংবা ধীরগতির ইন্টারনেট, এমন বহু অভিযোগ নিয়েই চলছে দেশের টেলিযোগাযোগ সেবা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ করলেও, সেবার মানের তেমন উন্নয়ন ঘটেনি বলে অভিযোগ করলেন মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। জানালেন, উচ্চহারে ফি প্রদান করেও যথাযথ সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের।

মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কের সেবার মান বিশ্লেষনে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রতি দশ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে অপারেটররা খুবই কম তরঙ্গ ব্যবহার করছে। যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিন্ম। বিটিআরসির কমিশনার এ. কে. এম. শহীদুজ্জামান জানালেন, এমনকি মোট ৪৯ শতাংশ সাইটে এখন পর্যন্ত নতুন বরাদ্দকৃত তরঙ্গ সংযোজনই করেনি মোবাইল অপারেটররা। যদিও মান সম্মত সেবা দেয়ার জন্য তরঙ্গের সর্বোত্তম ব্যবহার খুবই জরুরি ইন্টারনেট গতিসহ টেলিযোগাযোগ মান উন্নয়নের জন্য দেশব্যাপী সকল সাইটের নতুন বরাদ্দকৃত তরঙ্গ সংযোজন করা প্রয়োজন।

ইন্টারনেট সেবায় প্রত্যাশিত গতি না পাওয়ার অভিযোগও আছে অপারেটরদের বিরুদ্ধে। বিটিআরসির অনুসন্ধান বলছে, নূন্যতম ৩২ শতাংশ গ্রাহক সরকার নির্ধারিত ৭ এমবিপিএস গতিও পায় না। শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটরের ডাটা সেশনের গতি ৫ এমপিবিএসেরও কম। তবে রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদুল আলম এ ব্যাপারে বলেন, লাইসেন্স ফি ও তরঙ্গের উচ্চমূল্যের কারণে গ্রাহক সেবায় বিনিয়োগ বিঘ্নিত হচ্ছে।

উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার জন্য ফোর-জি সাইটগুলোতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার অন্যতম শর্ত। অথচ অপারেটগুলো ফাইবার অপটিক্যালের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা না দিয়ে, দিচ্ছে মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে। ফোর-জি সেবায় গ্রামীনফোন মাত্র ১২ শতাংশ অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করছে। রবি ১৮ শতাংশ, বাংলালিংক ১৩ শতাংশ মাত্র। যদিও টেলিটক ব্যবহার করছে ৬৭ শতাংশের বেশি। অথচ দেশের ভূ-গর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত।

ব্যান্ডউইথ সরবরাহেও চরম গাফিলতির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৯২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। কিন্তু মোবাইল অপারেটররা দেশের মোট ব্যান্ডউইথের মাত্র ৪৫ শতাংশ বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের চাহিদার জন্য ব্যাবহার করছে। সেবার মানদণ্ডে যা অপ্রতুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *