ঢাকা, শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
রামু-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ থেকে সরে এলো রেলওয়ে
ডেস্ক রিপোর্ট ::

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেললাইনের কাজ ২০২৩ এর জুনের মধ্যে শেষ হবে এবং এই প্রকল্পের ত্রুটিগুলো পর্যালোচনায় আরও এক বছর প্রয়োজন হবে।

বিদ্যমান রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনৈতিক জটিলতার কথা বিবেচনা করে দোহাজারী-কক্সবাজার রেল সংযোগের রামু-গুনদুম অংশের কাজ স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় রামু-গুনদুম রেললাইন থেকে বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা আসার সম্ভাবনা নেই।

প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমরা ১০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। কিন্তু এ প্রকল্পের আওতায় রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার অংশ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই।”

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলেন, জমি অধিগ্রহণ এবং এই রুটে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে গেছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নত হলে আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আরেকটি প্রকল্পের অধীনে রামু-গুনদুম রেললাইন নির্মাণ সম্পন্ন হবে।

২০১৮ সালে মিয়ানমারের সাথে বিরোধের ফলে নাফ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বাংলাদেশ।

এদিকে, ২০২২ এর জুনের মধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা আরও ২ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেললাইনের কাজ ২০২৩ এর জুনের মধ্যে শেষ হবে এবং এই প্রকল্পের ত্রুটিগুলো পর্যালোচনায় আরও এক বছর প্রয়োজন হবে।

ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে করিডর এবং রেল নেটওয়ার্কের সাথে সাথে কক্সবাজারকে যুক্ত করার জন্য ২০১০ এর জুনে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন ডিভিশনের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি কারণ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আইএমইডি প্রতিবেদনে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রকল্প অর্থায়নকারী সংস্থা এডিবির সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে আইএমইডি-র কাছে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে।

কিন্তু এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন আইএমইডি ও ইআরডি কর্মকর্তারা।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান (এডিবি) ড. পিয়ার মোহাম্মদ বলেন, রামু-গুনদুম রেললাইন নির্মাণের বিষয়ে ইআরডি অবগত নয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ও ইআরডির মাধ্যমে এডিবির সাথে যোগাযোগ করেনি বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *