ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
রাত পোহালেই ইউপি নির্বাচন, সহিংসতার শঙ্কা
উখিয়া নিউজ ডেস্ক :

রাত পোহালেই দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ চলবে। কিন্তু এই নির্বাচন ঘিরে রয়েছে সন্ত্রাস ও সহিসংসতার আশঙ্কা।

ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস, সংঘাত, সংঘর্ষ, সহিংসতা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। আর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে এ পর্যন্ত ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এরমধ্যেও ভোটের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচনের দিনেও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যে মাত্রায় সহিংসতা হচ্ছে, সেটা দেখেই এই আশঙ্কা। তবে কেউ এই সহিংসতার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। খোদ নির্বাচন কমিশনও কেবল বিব্রত এবং উদ্বিগ্ন’ হওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে এই সংঘাত ও সংঘর্ষ ঠেকানোর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। কিন্তু ইসি বলছে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সংঘাত হওয়ায় অনেক সময় ঠেকানো যায় না।

গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে এই সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ওই বৈঠকের পরও সহিংসতায় কমপক্ষে ৭জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৈঠকের দিনই নরসিংদীর রায়পুরায় নির্বাচনী সহিংসতায় ৪জন নিহত হন। ওই সংঘর্ষ রীতিমত টেটাযুদ্ধে রূপ নেয়। অধিকাংশ সংঘাত ও সংঘর্ষ হয়েছে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে এপর্যন্ত ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার মেহেরপুরের গাংনি উপজেলায় দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যার মত ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই সংঘাত ও সহিংসতা ঠেকাতে না পারার জন্য প্রধানত নির্বাচন কমিশনই দায়ী। আর এমন পরিস্থিতি দেখে নির্বাচন কমিশন আছে কী নাই সেই প্রশ্ন উঠছে। তারা বিব্রত হলে নাগরিকেরা কি করবেন?

সহিংসতার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, সহিংসতা হচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করেও অনেক সময় তা ঠেকাতে পারছেনা। এখানে কে দায়ী বা কার দায়-দায়িত্ব সেটা বিষয় নয়। আমরা সহিংসতা ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। পুলিশ ও প্রশাসনকে নিয়ে বৈঠক করেছি। ডিআইজি এবং এসপিরা ছিলেন। সহিংসতা ঠেকাতে আমাদের কড়া নির্দেশনা আছে।

ভোট প্রসঙ্গে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, নির্বাচনী সামগ্রী আজ (বুধবার) কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছে। আর ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। তবে দুই-এক জায়গায় সংঘর্ষের কিছু ঘটনা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের ১১ নভেম্বর ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এরইমধ্যে ৮১টি ইউপির চেয়ারম্যান বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আর এবার বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না থাকলেও তাদের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতের আছেও। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা আছেও। তারাই মূলত আলোচনার তুঙ্গে। কেন্দ্র থেকে সতর্কতা হুশিয়ারি দিলেও তাদেরকে দমাতে পারেনি। এর প্রধান কারণ হলো স্থানীয় পর্যায়ে এমপি বা কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রুপিং। তাই প্রথম ধাপের দুই দফার নির্বাচনের তুলনায় এবার ত্রিমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রবল।

সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ৬৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। কোনো কোনো ইউপিতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও আাছে। আর বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৩১১ জন। জাতীয় পার্টির ১০১ জন প্রার্থী আছেন।

ইউপি নির্বাচনে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা, ২১ অক্টোবর বাছাই এবং ২৬ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ৮১ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২০৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। আর চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ৩১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নয় হাজার ১৬১ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২৮ হাজার ৭৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে প্রচলিত ব্যালট পেপারে ভোট হবে।

অন্যদিকে অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুতে নরসিংদীর আলোকবালী এবং পাড়াতলী ইউনিয়নে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সহিংসতায় ৫জনের নিহত হয় এবং ২৫ অক্টোবর বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন।

গত ৬ নভেম্বর কক্সবাজার সদরের ঝিলংজায় দুর্বৃত্তের হামলায় জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার ও তার ভাই ইউপি নির্বাচনের সদস্য প্রার্থী কুদরত উল্লাহ সিকদারসহ ৩জন গুলিবিদ্ধ হন। আর গত ৯ নভেম্বর পাবনার সুজানগরের ভায়না ইউনিয়নে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন, ভাঙচুর করা হয় ১১টি মোটরসাইকেল। গত ২৯ অক্টোবর একই উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১৫ জন আহত হন।

এদিকে চতুর্থ ধাপে দেশের ৮৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর। বুধবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এই ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ২৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই হবে এবং ৬ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ভোট গ্রহণ হবে ২৩ ডিসেম্বর।

একই তফসিলে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভা, পাবনার আটঘরিয়া ও নরসিংদীর রায়পুরা পৌরসভায় ভোট গ্রহণও অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *