ঢাকা, সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
যেভাবে মারা যায় উখিয়ার ঈছমাইলের শিশুপুত্র
নুর মুহাম্মদ সিকদার ::

জীবন যেখানে যেমনে যায়!

কিভাবে মারা গেল ঈসমাইলের সাধনার ধন?

হায়াত নাই-ঠিক আছে-কিন্তু এইযে ব্যবসা-ভূল চিকিৎসা-অবহেলা আর চিকিৎসা অপ্রতুলতায় মৃত্যুর দায় কার উপর বর্তায়!

ডিসেম্বারের ১১ তারিখ থেকে ৩ মাসের ঈসমাইলের বাছাধন অসুস্হ হয়ে দুধ খাওয়া অনেকটা ছেড়েই দিলে উখিয়া ফার্মেসীর হাতুড়ে ডাক্তার বিকাশ বাবুর কাছে নিয়ে যায় চিরদুঃখী ঈসমাইল।

অসুখের বর্ননামতে শিশুটিকে ঔষধ দিয়ে দিলে বাসায় নিয়ে খাওয়ায় ডোজ যেমন দিল।
তারপর অবস্হা ভিন্ন দিকে মোড় নিলে ১৩ ডিসেম্বার অগত্যা উখিয়া স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ভোর ৪ টায়।
কিন্ত ইমার্জেন্সীতে ডাক্তার নেই।
শিশুর অস্হিরতায় অনেকটা বেহুশের মত ডাক্তার খুজছিল।কিন্তু Ngo দখলে থাকায় তাদের উপর ভরসা করে উখিয়ার জন্যে যারা তারা মনে হয় ছিলনা সেদিন।

মারা যাওয়া সূত্রসহ অসহায় পিতা ইসমাইল

যাই হউক সকাল ৯ টায় ডাক্তার এসে কিন্ত ভর্তি দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করেছিল আন্তরিক ভাবে ঠিকই -কিন্তু বয়স ৩ মাস মাত্র-তাই বিলম্বে অপ্রতুল চিকিৎসায় অসুস্হতা সহ্যের ধারন ক্ষমতা শিশুটির ছিলনা বিধায় অবস্হা জটিল হয় আরও।

ডাক্তার জবাব দে- কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দিয়ে দে রেফার।মনোকষ্টে প্রাণের অসুস্হ ধনকে কোলে নিয়ে ষ্ট্যাটাস দেয়-ডাক্তার আছে চিকিৎসা নেই।চলে যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল।

ওখানে গিয়ে দেখে চিকিৎসার পরিবেশ নাই।

অগত্যা কোলে নিয় ছুটে যায় কক্সবাজার সেন্ট্রাল হাসপাতালে।শিশুবিশেষজ্ঞ ডাক্তার আশীষ দে এর কাছে।উনি সদর হাসপাতালেরই ডাক্তার।ওখানে ভর্তি দিয়ে কাগজ পত্র দেখে ভর্তিদে।তারপর স্যালাইন।অতপর চলে যান মহেশখালী চেম্বারে।রাতে ফিরে দেখে চলে যায় কোথায়।

এভাবেই ১৮ তারিখ পর্যন্ত স্যালাইন চলাকালীন সময়ে মূমূর্ষ বস্হায় দুধ খেতে চাইলে খাওয়াতে বলে।রোগের মোড় ঘুরে গিয়ে জীবন ঝুকিঁতে পড়ে শিশু ইব্রাহীম ইবাদ।
সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাঃ আশীষ ১৭ হাজার টাকা পরীক্ষা আর রুম ভাড়া-ঔষধ খরচ ১৩ হাজার টাকার বিল আদায় করে চট্রগ্রাম রেফার দিলে সন্তানের অসুস্হতা আর অর্থ অপ্রতুলতায় আধা পাগল হওয়া ঈসমাইল অকথ্য কষ্টে তাই করে।
মেডিকেলে মূমূর্ষ শিশুটি রাখার জায়গা জুটলনা।

বাপের প্রাণ বাচাঁতে ছুটে গেল চট্রগ্রাম মেট্রো -পলিটন হাসপাতালে।
ডাঃ শাহীনের তত্বাবধানে ভর্তি হল ICU তে।পরীক্ষা নিরীক্ষা যথাযথ চিকিৎসা সব হল কিন্তু স্যালাইন চলাকালীন দুধ খাওয়ানোটা সম্ভাবনাময় নিষ্পাপ শিশু ইব্রহীম ইবাদ এর সবশেষ ডাঃ শাহীন তাই বলেছেন।তবুও দুধগুলো ওয়াশ করল।কিন্তু?

দূর্ভাগ্যে-এদেশের সেবক নামক ব্যবসায়ী ডাক্তারদের অর্থের লালসার আগ্রাসনের বলী হল নিরহ যুবক সাধনার ধন আর কষ্টার্জিত অর্থ দুটাই হারাল।

এর দায় রক্তার্জিত দেশের নীতিমালাহীন স্বাস্হ্য অধিদপ্তর এড়াতে পারেকি?
কেয়ামতে কঠিন দিবসে ইব্রাহীম ইবাদ যদি আল্লাহর সামনে নালিশ করে কোন অজুহাত কি কাজে আসবে?

যা পারবেন তাই করুন,যা করার তাই করি
,আসুন দেশ আর মানুষকে ভালবাসি,শিশু সহ মানুষের প্রতি যত্নশীল হই।

লিখাটি সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ সিকদার এর ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *