ঢাকা, শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৭:০২ অপরাহ্ন
ওয়াদা রেখেছি, আজ প্রতিটি ঘর আলোকিত
ডেস্ক রিপোর্ট ::

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের সবচেয়ে বড় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ওয়াদা দিয়েছিলাম মুজিববর্ষে প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালাবো। ওয়াদা রেখেছি। আজ দেশের প্রতিটি ঘর আলোকিত হয়েছে । গতকাল দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর ১৫ই আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্বজনহারা, দেশহারা হয়ে রিফিউজি হয়ে থাকতে হয়েছিল বিদেশের মাটিতে। বেশ সময় লেগেছিল এ আঘাত সহ্য করতে। ’৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকার গঠন করি।

তখন দেশে ছিল বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, সামান্য কিছু লোক বিদ্যুৎ পেতো। গ্রামে গ্রামে তো বিদ্যুৎ নাই। আমরা উদ্যোগ নিলাম। শুধু সরকারই না, বেসরকারি খাতেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাবো। যেখানে মাত্র ১৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম, ৫ বছরের মধ্যেই আমরা ৪৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হলাম। দুর্ভাগ্য আমরা ২০০১-এ সরকারে আসতে পারিনি। ২০০৮-এর নির্বাচনের পর যখন ২০০৯-এ সরকার গঠন করি তখন দেখলাম ৪৩শ’ থেকে কমে ৩২শ’তে নেমে গেছে বিদ্যুৎ। মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায় কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়ে যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যারা সরকারে ছিল এদেশকে এগিয়ে নেয়ার কোনো আন্তরিকতাই তাদের ছিল না। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য এদেশের মানুষের।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০২২ পর্যন্ত এই ১৩ বছর একটানা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি বলেই দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি মানুষও ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না। আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করবো, ইনশাআল্লাহ্‌।

রাঙ্গাবালী, নিঝুম দ্বীপ, সন্দ্বীপ এলাকায় নদীর তলদেশ থেকে আমরা সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছি। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান আমরা করে দিচ্ছি। আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে বাংলাদেশ আর পেছনে না ফেরে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিপিসিএল)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদ আলম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ। এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সিনিয়র সচিব, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে এসে পৌঁছালে রামনাবাদ চ্যানেলে ২২০টি বর্ণাঢ্য পাল তোলা নৌকা পতাকা নাড়িয়ে ও সংগীত পরিবেশন করে আকর্ষণীয় ডিসপ্লের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। প্রতিটি নৌকায় ৫ জন জেলে রঙিন পোশাকে সজ্জিত হয়ে এ ডিসপ্লেতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীকে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে বসে জেলেদের এ ডিসপ্লেতে মুগ্ধ হয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ছবি তুলতে দেখা  গেছে। এ ছাড়া ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির উপর বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র উপভোগ করেন। পরে বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন ও দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণার পর পর রঙিন আতশবাজিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নীল আকাশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম দেশ। এশিয়ায় সপ্তম ও দক্ষিণ এশিয়াতে বাংলাদেশ ছাড়া শুধু ভারতে এ ধরনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *