ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০২৪, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
উখিয়ার নব্য ইয়াবা গডফাদার নাসিরের উত্থান !
নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নাম আবু নাসের ,সবাই তাকে ইয়াবা নাসির নামেই বেশি চেনে। পিতা শাহজাহান। উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া, খয়রাতি পাড়া গ্রামের নব্য ইয়াবা গডফাদার। একসময় উক্ত গ্রামগুলোতে জেল ফেরত ইয়াবা গডফাদার আতাউল্লাহ / মির আহমেদদের দাপট ছিল। কিন্তু নব্য ইয়াবা গডফাদার ইয়াবা নাসিরের ইয়াবার তাণ্ডবে হারিয়ে যেতে বসেছে তারা। বিশাল বিস্তৃত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা বাণিজ্য করে অল্প বয়সে কোটিপতির খাতায় নাম লিখিয়েছে নাসির। পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্প হওয়ার সুবাদে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চোরাই অলিগলি পথগুলো কাজে লাগিয়ে নাসির সিন্ডিকেট বর্তমানে উখিয়ার ইয়াবার বাজার গরম করে রেখেছে। এলাকায় প্রচলন রয়েছে নাসিরের সাথে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে মধ্যে দেখা যায়। তবে তার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগের বেকার যুবক নাসির বর্তমানে কোটিপতি। গায়ে লেগেছে মরণনেশা ইয়াবার তকমা। তার নেতৃত্বে রয়েছে খয়রাতি/ হাজির পাড়া গ্রামের ৪০ জনের একটি সিন্ডিকেট। দিনের বেলায় ঘুমে থাকে তারা, সারারাত ধরে চলে ৪০ জনের ইয়াবা কারবার। ৪০ জনের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপ নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে কে কি কাজ করবে তা ভাগ করে দেয় নাসির। উক্ত ৪০ জনের মধ্যে ১০ জন থাকে বিভিন্ন পাহারায় নিয়োজিত , ১০ জন থাকে মোটরসাইকেল নিয়ে এসকটে। বাকি ২০ জন থাকে গাড়ি অথবা বিভিন্ন কৌশলে ক্যাম্প থেকে ইয়াবা নিয়ে আসার কাজে । এসব ইয়াবা এনে খয়রাতি পাড়া গ্রামের বিভিন্ন গোপনীয় স্থানে মজুদ করা হয়। খয়রাতি পাড়া মাঠের কোনের জসিমের দোকানকে টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে ব্যবহার করে হরিণ মারা,হিজলিয়া সড়ক হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজারে পাচার হয়ে যাচ্ছে নাসির সিন্ডিকেটের ইয়াবা। ইয়াবা বানিজ্য করে নাসির ইতিমধ্যে খয়রাতি পাড়াসহ উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে জমি কিনেছে। খয়রাতি পাড়া সাইক্লোন সেন্টারের নিচে বিপুল পরিমাণ জমি কিনে বর্তমানে তা ভরাট করা হচ্ছে। নাসিরের আরো একটি পরিচয় রয়েছে। সে উখিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের ইয়াবা গডফাদার ইকবালের চাচাতো ভাই। ইকবালের মাধ্যমেই নাসিরের ইয়াবা ব্যবসায় সংযুক্তি বলে জানা গেছে। নাসিরের বড় ভাই ওসমান গণির বিরুদ্ধেও রয়েছে ইয়াবা বানিজ্যের অভিযোগ। তবে ওসমান গনির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি টেলারিংয়ের কাজ করি, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে আমার ছোট ভাই নাসির ইয়াবা বানিজ্যে যুক্ত কিনা আমি জানিনা। তাদের সাথে আমার যোগাযোগ নেই।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহামদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন , মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উখিয়া থানা পুলিশ, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি। মাদক ব্যবসা করে কেউ পার পাবে না। সেটা ছোট-বড় নব্য যাই হোক না কেন। উখিয়া থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *