ঢাকা, মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
আ.লীগ নেতাকর্মীদের ‘বেঈমান’ বললেন পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী
ডেস্ক রিপোর্ট ::

পটুয়াখালীর বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ‘বেঈমান’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জসীম উদ্দিন খান।

টানা ১১ বছর ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা জসীম এবার হেরে গেছেন। তিনি বাউফল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

মঙ্গলবার রাতে বাউফল সদর ইউনিয়নের নিজ বাসায় কালো টাকা, দলীয় কোন্দল আর নেতাকর্মীরা বেঈমানি করায় তিনি হেরেছেন বলে দাবি করেছেন। দলের প্রতি এখন আর তার কোনো আস্থা নেই। আগামী নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন; আর না হবেন তা নিয়েও এখন আর কোনো মাথাব্যথা নেই বলেও জানান জসীম উদ্দিন খান।

জসীম উদ্দিন খান আরও বলেন, আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে বিগত ১১ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন আমি নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সেবা করেছি। জনগণের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা ছিল। কিন্তু আমার সঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বেঈমানি করেছেন।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করে জসীম উদ্দিন খান বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছেন। এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কালো টাকায় হাবুডুবু খেয়েছেন কেউ। এই নির্বাচনে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে দলের প্রতি এখন আর আমার কোনো আস্থা নেই। আমি আর রাজনীতি বা নির্বাচনের মধ্যে নেই। রাজনীতি করে তো আমি কিছু নিইনি, বরং দিয়েই গেছি। বিনিময়ে দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হয়েছি।

অভিমানী এই নেতা বলেন, এখন সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি। ইতোমধ্যে সামাজিক সব প্রতিষ্ঠানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট পাঁচ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে জসীম উদ্দিন খান তৃতীয় হন।

বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, পৌরসভার সঙ্গে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত মেয়াদে নির্বাচন না হওয়ায় টানা ১১ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন জসীম উদ্দিন খান। এছাড়া কর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়ে যায়। জসীম উদ্দিন খান সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়ায় এবং এক প্রার্থীর কালো টাকার প্রভাবে তিনি হেরে গেছেন।

বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে দলীয় ফোরামে আলোচনা না করে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম ফিরোজ এমপি বলেন, খুবই শান্ত এবং ভদ্র প্রকৃতির মানুষ জসীম। দলের মধ্যে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তার সমস্যা হয়েছে।

এছাড়া টাকা দিয়ে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটারদের প্রলুব্ধ করেছেন। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করায় কিছু কর্মী সম্ভবত তার ওপর বিরক্ত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *